ইরান থেকে ফিরলো আরও ২২ অপহৃত বাংলাদেশি

fera
সমাজের কথা ডেস্ক॥
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অপহরণ করে ইরানে নিয়ে যাওয়া আরও ২২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার সকালে তাদের বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ নিয়ে তৃতীয় ধাপে মোট ৪৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হলো।
বুধবার বিকেলে এ নিয়ে মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন-সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহ আলম, বিশেষ পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান, আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে ইরান ফেরতদের পরিচয় জানানো হয়। এরা হলেন- রাজবাড়ি পাংশার রুহুল আমিন, মেহেরপুরের গাংনীর জিনারুল ইসলাম, চাঁদপুরের আবু সাঈদ খাঁন, জামালপুরের আমিনুল ইসলাম, টাঙ্গাইলের দেলু, আমিনুর ইসলাম, বগুড়ার রফিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর আরমান হোসেন, যশোরের আক্তারুজ্জামান, বাগেরহাটের আতাউর রহমান, কিশোরগঞ্জের কামরুল হাসান, গোপালগঞ্জের আকরাম ফকির, নরসিংদীর সোহেল মিয়া, কুষ্টিয়ার আকমল হোসেন, মেহেরপুরের তাজ উদ্দীন, টাঙ্গাইলের নজরুল ইসলাম, নওগাঁর মামুনুর রশীদ, শহিদুল, রাজশাহীর আব্দুর রাজ্জাক, রহিদুল ইসলাম, মেহেরপুরের শাহিন এবং টাঙ্গাইলের সালাউদ্দীন।
অপহরণ করে ইরানে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার এটি তৃতীয় পর্যায়। এর আগে, প্রথম ধাপে ১৭ এপ্রিল ১২ জন, দ্বিতীয় ধাপে ২৫ এপ্রিল ৯ বাংলাদেশিকে দেশটি থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, দুবাই ও ওমানে কয়েকটি প্রতারক চক্র রয়েছে। চক্রগুলো সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি এক শ্রেণীর শ্রমিকদের টার্গেট করে ইরান, গ্রিস এবং তুরস্ক নিয়ে যাওয়ার লোভ দেখায়।
শ্রমিকদের বলা হয়, ইরান, গ্রিস ও তুরস্কের মতো দেশগুলোতে মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় হবে, সঙ্গে থাকা-খাওয়া কোম্পানির।
এমন লোভনীয় কথায় শ্রমিকরা বিশ্বাস করে সেখানে যায়। কিন্তু যাওয়ার পথে আরব সাগরের মধ্যে তাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে স্পিডবোটে উঠানো হয়। এরপর ইরানের বন্দর আব্বাস পার করে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গলের মধ্যে। সেখানে তাদের কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়। যারা মুক্তিপণের টাকা দিতে পারেন তারা টাকা দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। আর যারা টাকা দিতে পারেন না তাদের ওপর অমানসিক নির্যাতন চালায় দালাল চক্র।
এরকম প্রায় ৮০ জন প্রতারিত ব্যক্তির খোঁজ পায় বাংলাদেশের সিআইডি পুলিশ। ইরানি পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
এরপর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয় শুরু হয়। এ পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে ৮০ জনের মধ্যে মোট ৪৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হলো।

শেয়ার