২৫৯০ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

logo govt
সমাজের কথা ডেস্ক॥ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ২হাজার ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি এবং ১ টি সংশোধিত প্রকল্প।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এতে সরকারের অর্থায়ন ৬৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ১হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৭ কোটি টাকা।

একনেক সভায় ‘ইনহেন্সমেন্ট অব ক্যাপাসিটি অব গ্রিড সাবস্টেশন্স অ্যান্ড ট্রান্সমিশন লাইন ফর রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন’ নামক প্রকল্পটি পাস হয়। এর মোট ১ হাজার ৩ শ ৩২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার এ প্রকল্পে সরকারি অর্থ ২ শ ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২শ ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং বাকি ৯শ ১২ কোটি ৩৩ লঅখ টাকা বিশ্ব ব্যাংকের আইডিএ-এর কাছ থেকে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১০৮.৫ কি.মি. নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ২৮০ কি.মি. সঞ্চালন লাইন রিনোভেশনসহ ৬টি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই, ২০১৪ হতে ডিসেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড(পিজিসিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ‘পল্লী বিদ্যুৎ-এর ট্রান্সফরমারগুলো পুরোনো হয়ে যাওযায় তা প্রতিস্থাপনসহ নতুন সঞ্চালন লাইন তৈরি করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একথা বলবো না যে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা এখন পর্যন্ত শতভাগ সফল, তবে আমরা বিদ্যুৎ খাতে খুব খারাপ অবস্থা থেকে উঠে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ খাতে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করবো।’

‘স্কিল ফর ইম্পলয়মেন্ট ইসভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মোট অর্থের মধ্যে জিওবি খাত থেকে ২১৭ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ৮৩৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।

সাহায্যকৃত এ টাকার মধ্যে সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন(এসডিসি) ৫৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি) ৭ শ ৮০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে। এ প্রকল্পের আওতায় তৈরি পোশাক, নির্মাণ, তথ্য প্রযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া এবং জাহাজ নির্মাণসহ ৬টি খাতের শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে ৪৭ হাজার ৪শ জন এবং বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে ২ লাখ ১২ হাজার ৬শ সহ সর্বমোট ২ লাখ ৬০ হাজার জনকে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান ও ১ লাখ ৮২ হাজার জনের কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সারাদেশে এ প্রকল্পটি জুলাই, ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর, ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে।

মন্ত্রী জানান, আমাদের জনশক্তিকে সত্যিকারভাবে জনসম্পদে পরিণত করার জন্যে সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহায়তায় ২ লাখ ৬০ হাজার জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষিত করা হবে। যত দ্রুত আমরা কারিগরি শিক্ষাসহ সময়োপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারব তত দ্রুতই আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

‘বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন (সংশোধিত) নামক আরও একটি সংশোধিত প্রকল্প মঙ্গলবার একনেকে পাস হয়। ৮৮ কোটি টাকায় এ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিটিতে ৬০ জন করে মোট ১৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুগোপযোগী শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্রতিষ্ঠান হতে প্রশিক্ষিত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ প্রকৌশলীরা উন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে।

সভায় ১শ ১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার ‘সদর দপ্তর ও জেলা কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণ’ নামক প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানুয়ারি, ২০১৪ থেকে জুন, ২০১৬ মেয়াদে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

শেয়ার