লোহাগড়ায় জমির দখল নিতে জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা মারপিট ফাঁকা গুলি ॥ ধান ও মাছ লুট

lotpat
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ॥ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামে এক সরকারি সম্পত্তির দখল নিতে কালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার বড় ভাই’র নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তাদের নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী ও সমর্থক বেপরোয়া হামলা ও মারপিট করে। তারা সশস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে জমির পাকা ধান ও পুকুরের মাছ লুট করে। এ সময় জমির ভোগ দখলে থাকা জহুরুল হক খানের পরিবারের সবাই পালিয়ে বাঁচলেও পরিবারটির দু’জন মহিলা গুরুতর আহত হন। চেয়ারম্যান জহুরুলের স্ত্রীকে পায়ের নিচে ফেলে পিস্ট ও জুতাপেটা করেন এবং দু’রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউপি’র বড়দিয়া মৌজায় মঙ্গলপুর গ্রামের জহুরুল হক খান ৪ একর ৬৮ শতক সরকারি জমি ১৯৬৪ সাল থেকে ভোগ দখল করে আসছেন। গত ২৩ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার প্রভাবশালী এক নেতা ওই জমি ইজারা (লিজ) নেয়ার জন্য উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নিকট আবেদন করেন। আবেদনের প্রেেিত রোববার বিকালে কোটাকোল ইউপি’র সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) বিশ্বজিৎ দাস সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থল মঙ্গলপুর গ্রামে যান। এ সময় কালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার আপন বড় ভাই লিজের আবেদনকারী পেন্টু খানের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন বিবাদমান জমি দখল করার জন্য দেশীয় অস্ত্র লাঠি, রাম দা, হকিস্টিক, লোহার রড, সাবল, সড়কি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় সশস্ত্র লোকজন প্রায় ১৮ শতক জমির পাঁকা ধান কেটে নেয় ও পুকুর থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মাছ লুট করে। এ সময় জহুরুল হক খানের স্ত্রী হালিমা বেগম বাঁধা দিলে কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান হালিমা বেগম (৫৮)কে চুল ধরে টেনে-হিচড়ে মাটিতে ফেলে জুতা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বক আহত করে। পুত্র বধূ জোছনা বেগম শাশুড়ি হালিমা বেগমকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও সন্ত্রাসীরা চড়-থাপ্পড় মেরে তার পরনের ওড়না ছিনিয়ে নেয়। এ সময় কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান তার লাইসেন্সকৃত শর্টগান দিয়ে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কোটাকোল ইউপি’র সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) বিশ্বজিৎ দাস বলেন, মতিন খানের জমি লিজ সংক্রান্ত আবেদনের প্রেেিত তিনি রোববার তদন্তের জন্য মঙ্গলপুর যান। সে সময় কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান শামিমুর রহমান ওসি ও পেন্টু খান ছাড়াও প্রায় শতাধিক লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে সেখানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়। এদিকে গুরুতর আহত হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া হাসপাতালে এবং পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সুবাশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান শামিমুর রহমান ওসি জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তার ভাই পেন্টু খান সাংবাদিকদের সাথে ফোনে কথা বলতে রাজি হননি । লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সুবাশ বিশ্বাস বলেন, গুলি বর্ষণের ঘটনায় কোন স্বাী পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জহুরুল হক খানের ছেলে নবিউল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা (এজাহার) দাখিল করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তার পরিবারের প্রতি মানুষ ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা নিজেদের চেহারার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এই কর্মকান্ডে তাদের ঘনিষ্টজনরাও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন দু’একজন লোভী ব্যক্তির জন্য দলের বদনাম হচ্ছে। এর তদন্ত হওয়া দরকার এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলেও তারা মনে করেন।

শেয়ার