জার্মান বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

PM German
সমাজের কথা ডেস্ক॥
বাংলাদেশের উন্নয়নে অতীতের মতো জার্মান সরকার, জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সফররত জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত করতে এলে এ সহায়তা চান তিনি। পাঁচ সদস্যের এ প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডগমার জি হোর্ল।
সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে আরো বেশি জার্মান বিনিয়োগেরও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার দেশের নাগরিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার লক্ষ্য- দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ। যেখানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের অবস্থান থাকবে না। সে লক্ষ্য পূরণের জন্য আমার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
২০০৮ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর বিশ্বমন্দা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করে তার সরকারের এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরও বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।
সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির ব্যাপক বিস্তারের ফলে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশে নেমে আসার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতকালে ডগমার জি হোর্ল বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির দীর্ঘদিনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সে লক্ষ্য ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ পূরণে সহায়তা করবে জার্মানি।
সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের উল্লেখ করার মতো সাফল্যের প্রশংসা করেন জার্মান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা বাংলাদেশের জনগণের অগ্রগতির প্রশংসাও করেন।
প্রধানমন্ত্রীও স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে জার্মান সরকারের সহায়তার কথাও স্মরণ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তার স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানির কার্লসরুই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সঙ্গে জার্মানির একটি আবেগময় সম্পর্ক রয়েছে।

সাক্ষাতকালে আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল।

শেয়ার