আইন আছে প্রয়োগ নেই ॥ যশোরে ইজিবাইকে মাসে ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি

Easi Baik
প্রত্যয় জামান ॥ যশোরে ইজিবাইক খাতে মাসে চাঁদাবাজি হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ১২ মাসে যার হিসাব দাঁড়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ। যার সিংহ ভাগই যাচ্ছে কথিত সমিতির কর্মকর্তাদের পকেটে। শহরে পুলিশের নাকের ডগায় গরিবের পেটে লাথি মেরে এই নিরব চাঁদাবাজি চললেও রহস্যজনক কারণে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। যশোর শহরে বর্তমানে ইজিবাইকের সঠিক পরিসংখ্যান কোন সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বে-সরকারি সূত্র মতে বর্তমানে শহরে ইজিবাইক চলাচলের সংখ্যা ৫ থেকে ৬ হাজার হবে। তবে কথিত ইজিবাইক চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমন জানান আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। এর বাইরে উপশহর এবং অন্যান্য পৌর এলাকায় এর সংখ্যা আরো দেড় হাজার হবে। এরমধ্যে মাত্র যশোর পৌরসভায় ৮২৭টি ইজিবাইকের নিবন্ধন রয়েছে। বর্তমানে নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ।
বিভিন্নসূত্র মতে, শহরে এবং উপ-শহর মিলে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ব্রান্ডের টিকিট। চালকের রোজগার হোক আর না হোক টিকিট হাতে ধরিয়ে দিয়ে আদায় করা হয় টাকা। শহরের মণিহার এলাকা, দড়াটানা চত্ত্বর, চাঁচড়া চেকপোস্ট, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এবং পালবাড়ি ভাস্কর্যের মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আদায়কারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা সমিতির নামে ওই চাঁদা আদায় করেন। কেউ চাঁদা দিতে সম্মত না হলে তার ওপর জোর জুলুম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে ১০ টাকা হারে চাঁদা তোলা হলে তার হিসাব দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে মাসে ১৫ লাখ এবং বছরে চাঁদাবাজি হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যার পুরোটাই গরিবের ঘাম ঝরানো। ইজিবাইক চালক সমিতির নামে এই বিপুল অংকের টাকা চাঁদাবাজি হলেও তাদের কল্যাণে কোন ব্যয় নেই। নামমাত্র অর্থ আদায়কারীদের দিয়ে বাকি টাকা পকেট ভারি করছেন সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমন। সারা শহরে চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করা হয় মণিহার এলাকায় হোটেল কোকোর দ্বিতীয় তলায় বসে। সেখানে খোলা হয়েছে কথিত সমিতির অফিস।
পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন.ইজিবাইক চালক সমিতির কোন বৈধতা নেই। না আছে তাদের জেডিএল’র কোন রেজিস্ট্রেশন না আছে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন। মুদ্দা কথা হচ্ছে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ই পরিবহন শ্রমিক। বিধি অনুযায়ী কোন পরিবহন শ্রমিক অন্য কোন ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেন না। তাদের মতে সম্পুর্ণ অবৈধভাবে গরিব ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে এই টাকা তোলা হচ্ছে। যা বৈধ করার জন্য সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পদস্থ কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এবারও মে দিবস উপলক্ষে এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন চাঁদা আদায়ের জন্য তাদের শহরে ২০/২৫ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া আছে। তারা চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি শহরে যানজট নিরসনে ভূমিকা পালন করেন। প্রতিদিন যে টাকা তোলা হয় তা আদায়কারীদের বেতন এবং সমিতির সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে তার কথার সাথে বাস্তবতার কোন মিল পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ সমিতির সদস্যদের কল্যাণে কোন টাকা ব্যয় করা হচ্ছে না। কথিত সমিতির নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদাবাজি হলেও প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই। অথচ চাঁদাবাজি বন্ধে রয়েছে কঠোর আইন। কিন্তু তার কোন প্রয়োগ নেই।

শেয়ার