সেই সিভিল সার্জন বরখাস্ত

chuadanga
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অনৈতিক কাজের অভিযোগে খুলনায় সাবিনা ইয়াসমীন নামে এক নারী ‘অ্যাডভোকেটের’ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. খন্দকার মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্থসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করা হয়েছে।

অপরদিকে, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মাসুম রশিদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সাবিনা ইয়াসমিন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য নন।

এ দুজনই বর্তমানে পৃথক দুই মামলায় খুলনা জেলা কারাগারে বন্দী আছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে রোববার ডা. খন্দকার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (পার-২) মো. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত ২৪৮ নম্বর স্মারকের প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার/স্বাস্থ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. খন্দকার মিজানুর রহমানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওএসডি করা হয়।

অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম জিয়াউদ্দিন স্বাক্ষরিত ২৪৯ নম্বর স্মারকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছেন সেহেতু তাকে বিএসআর পার্ট-১ বিধি ৭৪-এর বিধান মোতাবেক গ্রেফতারের তারিখ অর্থাৎ ২৫-৪-১৪ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. খন্দকার মিজানুর রহমানকে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক কোয়ার্টারের বিপরীত দিকের সাবিনার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অভিযানকালে সাবিনার বাসা থেকে কিছু সরকারী ওষুধপত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম।

পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. খন্দকার মিজানুর রহমান প্রায়ই অ্যাডভোকেট সাবিনা ইয়াসমিনের খুলনার ওই ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন। বেশ কিছুদিন ধরে তার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা থেকে ট্রেনে করে খুলনা এসে ওই বাসায় ওঠেন তিনি।

পরে রাতে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডা. খন্দকার মিজানুর রহমান বাথরুমে আত্মগোপন করেন। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে লুঙি পরিহিত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় পুলিশি জেরায় তারা সম্পর্কে পরস্পর নানা-নাতনি বলে পরিচয় দেয়।

স্থানীয়রা জানায়, সিভিল সার্জন ডা. খন্দকার মিজানুর রহমান মাঝে-মধ্যেই খুলনায় অ্যাডভোকেট সাবিনার বাসায় আসা-যাওয়া এবং সেখানে রাত্রি যাপন করতেন।

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মিজানুর রহমানের নারী কেলেঙ্কারির খবরে চুয়াডাঙ্গায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, ডা. মিজানুর রহমান সরকারি দায়িত্বে থাকার পরও কোনো ছুটি না নিয়ে প্রায়ই অফিসের কাজের কথা বলে খুলনায় থাকতেন।

শেয়ার