সাতক্ষীরায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে শিবির নেতা নিহত ॥ ৫ পুলিশ সদস্যসহ আহত ১২॥ দু’পিস্তল উদ্ধার

photo satkhira shibir police gun fight
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ॥ সাতক্ষীরায় শিবিরের গোপন বৈঠকে হানা দিলে পুলিশের ওপর শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ ও বোমা হামলা চালায় দলটির ক্যাডাররা। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এতে আমিনুল ইসলাম (৩০) নামে এক শিবির নেতা নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় দলটির আরও ৭ নেতা-কর্মী। তবে কৌশলী ভুমিকার কারণে বড় ধরণের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় পুলিশ। যদিও কম-বেশি আহত হন পুলিশের ৫ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ২টি পিস্তলসহ এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। জানা যায় রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সাতীরা শহরের কামালনগর গোরস্থান সংলগ্ন মুকুলের বাড়িতে শিবিরের গোপন বৈঠকে হানা দিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শিবির সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। এ সময় মুহুর্মুহ বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে নিহত ও ৭ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নাম আমিনুল ইসলাম। তিনি সাতীরা শহর শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মফিজ সরদারের ছেলে। গুলিবিদ্ধ শিবির ক্যাডারদের মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা গ্রামের সাহাদাত হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ, তালা উপজেলার খলিষখালী গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে আব্দুস সুবুর, খুলনা জেলার খানজাহান আলী থানার শাহাজানের ছেলে আক্তার হোসেন, শ্যামনগর উপজেলার পারশেখালি গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে ইমরান হোসেন, খুলনার ফুলতলার আব্দুস সাত্তারের ছেলে আজিজুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবু তালেব ও আব্দুল গফুর। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল আব্দুর রহমান, কনস্টেবল নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন ও কনস্টেবল জিললুর রহমান।
সাতীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিকালে কামালনগরের মুকুলের বাড়িতে শিবিরের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শিবিরের নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সশস্ত্র হামলা চালায়। তারা ২০/২৫ টি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। পুলিশ আত্মরার্থে গুলি করলে ৭/৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়। কৌশলী ভুমিকার কারণে পুলিশের অনেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তারপরও কমবেশি আহত হয়েছেন ৫ পুলিশ সদস্য। তিনি বলেন আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনের মৃত্যু ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি ও একটি বিদেশি পিস্তলসহ এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। নিহত আমিনুলের লাশের ময়না তদন্তের প্রস্তুতি চলছিল। আহতদের সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, নিহত ও আহতরা কয়েক মাস ধরে মেসে থেকে পড়াশুনা করে আসছিল। গতকাল তারা দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ পুলিশ যেয়ে তাদের ধরে চোখ বেঁধে পায়ে গুলি করে এবং আমিনুলের বুকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতরা সাতীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের সাথে জামায়াতের এই নেতার বক্তব্যের রয়েছে চরম অমিল। কয়েক মাস ধরে তারা যদি মেসে থেকে লেখাপড়া করবে তাহলে নিহত আমিনুল সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পেলেন কিভাবে এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সচেতনমহলের দাবি শিবির সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সাতক্ষীরায় এখনো যে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে তার জানান দিতে চেয়েছে। এঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শেয়ার