রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যশোর মেডিকেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাংচুর দুর্ব্যবহার ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

jessore sadar hospital
আরমান সজল॥ জামসেদ আলী নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। এ সময় তারা কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের সাথেও মারমুখি আচরণ করে। শনিবরার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নেয়ায় হামলাকারীরা পীট বাঁচাতে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্তে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইয়াকুব আলীর নির্দেশে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা যায় ২৫ এপ্রিল পেটের ব্যাথায় কাতর জামসেদ আলীকে তার স্বজনরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাকে রাখা হয় পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের ১৫ নম্বর বেডে। মধুসুদন পালের চিকিৎসায় তিনি সুস্থ্যতাবোধ করলেও শনিবার তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তাৎক্ষনিক বিষয়টি ওয়ার্ডের নার্সরা ডা. ইউনুস আলীকে অবহিত করলে তিনি একটি ইনজেকশন লিখে দেন। ইনজেকশন পুশ করার পরই তার মৃত্যু ঘটে। এতে রোগীর স্বজনদের ধারণা জম্মে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ওই ওয়ার্ডে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ও আলমারী ভাংচুর ও খাতাপত্র ছিড়ে তছনছ করে। এক পর্যায়ে তারা নার্স বিশাখা ঘোষ সামছুন্নেছা রোকশানা পারভীনকে মারতে উদ্যত্ত হয়। এ সময় রোগী ও হাসপাতালের নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা জরুরী বিভাগের ডা. ইউনুস আলীর সাথেও দুর্ব্যবহার করে। হামলার শিকার কয়েকজন জানান বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনের আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে কিন্তু বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পুরাতন কসবা এলাকার বিএনপি নেতা আলী মদন হোসেনের ছেলে উল্টো তদন্ত দাবি করে সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। পীঠ বাঁচাতে বিএনপি’র হামলাকারীরা এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শেয়ার