যশোরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ॥ অভিভাবক সদস্যের সঙ্গে মায়ের বিরোধে মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ

songbad
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে মায়ের সঙ্গে অভিভাবক সদস্যের বিরোধে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী আফরিন জাহান নিশার। নিশা যশোরের নওয়াপাড়া শংকরপাশা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গত দশদিন ধরেই নিশার স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা শিখা ইসলাম।
রোববার দুপুরে যশোর প্রেসকাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিখা ইসলাম। তিনি জানান, গত ১৬ এপ্রিল শংকরপাশা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নিশাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে স্কুলে আসতে নিষেধ করে দেন। এরপর থেকে গত দশদিন ধরে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
শিখা ইসলাম অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের আরেক অভিভাবক শাম্মি আক্তারের সাথে তার বাক বিতণ্ড হয়। একপর্যায়ে শাম্মি আক্তার তাকে মারপিট করেন। এঘটনায় মা শিখা ইসলাম অভয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় শাম্মি আক্তারসহ তার পরিবার।
এদিকে ওই ঘটনার পর শাম্মি আক্তার স্কুলের অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন করে অপতৎপরতা শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে নিশার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন।
নিশার মা শিখা ইসলাম তার মেয়ে নিশাকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যন অধ্যাপক আমিরুল আলম খান ও অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মেহনাজের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, স্কুল ছাত্রী আফরিন জাহান নিশা ও তার বাবা রবিউল ইসলাম।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিশাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যেহেতু নিশার মায়ের সঙ্গে অভিভাবক সদস্য শাম্মি আক্তারের বিরোধ রয়েছে। এটি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে ওই ছাত্রীকে স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
মীমাংসার জন্য মেয়েটির স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে হবে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, যেহেতু মেয়েটি মায়ের সঙ্গে স্কুলে আসে তাই যাতে নতুন করে কোনো বিরোধের সৃষ্টি না হয় সেজন্যই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খান জানান, তিনি অভিযোগটি পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শেয়ার