মেট্রোরেল আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত

mettro rail
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভূমি অধিগ্রহণের বিশেষ বিধান রেখে মেট্রোরেল সংক্রান্ত আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘মেট্রোরেল আইন, ২০১৪’ এর খসড়া অনুমোদিত হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প মেট্রোরেল (এমআরটি-৬) সরকারি ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড দিয়ে পরিচালিত হবে এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে।
“প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।”
বিধানগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের যে বিধান রাখা হয়েছিল, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এ বিধান রাখা হবে।
খসড়ায় ভাড়া নির্ধারণ, পরিদর্শক নিয়োগ, দুর্ঘটনা ও আইন লঙ্ঘনের শাস্তির বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিটিসিএ’র একটি কমিটির মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে এবং রেলের পরিদর্শকও তারা নিয়োগ করবে।
আইনে বিভিন্ন ধরণের অপরাধের দণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল ও এককোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত করার সময় তা প্রচলিত আইনের সাথে সামঞ্জস্য করা হবে।
“লাইসেন্স ছাড়া লাইন স্থাপনে ও পরিচালনায় ১০ বছর ও এক কোটি টাকা জরিমানা, পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করলে এক বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং বিনা টিকেটে ভ্রমণ ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।”
প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বৃহত্তর ঢাকার ছয়টি জেলা এর আওতায় আসবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের আরো প্রকল্প এলে তা এই আইনের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।
“আইনে পিপিপি’র মাধ্যমে মেট্রোরেল স্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে।”
এতে নয়টি অধ্যায় এবং ৪৫টি ধারা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “ভবিষ্যতে অন্য কোনো কোম্পানি (সরকারি ছাড়া) মেট্রোরেল পরিচালনা করতে চাইলে লাইসেন্স নিতে হবে এবং ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ লাইসেন্স দেবে।
খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের পর আইন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

২০১২ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এ প্রকল্প অনুমোদন হয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লাইন-৬ উত্তরা থার্ড ফেজ থেকে শুরু হয়ে পল্লবী, রোকেয়া সরণি (পশ্চিম), খামারবাড়ি, ফার্মগেইট, হোটেল সোনারগাঁও, শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, তোপখানা রোড হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।
“এ প্রকল্পে ১৬টি স্টেশন থাকবে- উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর-১০ নম্বর, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি. ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম, বাংলাদেশ ব্যাংক।”

শেয়ার