মাগুরার মালঞ্চি গ্রামে তোজাম-উবাইদুর বিরোধে শুক্রবার খুন হন কৃষক ওমর ॥ রোববার দিনভর দফায় দফায় লুটপাট ভাংচুর॥ হালের গরু থেকে শুরু করে লুট হয়েছে টিউবওয়েল পর্যন্ত

Magudra
মাগুরা প্রতিনিধি ॥ মাগুরায় সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের কৃষক ওমর মোল্লা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে দফায় দফায় লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি ধরপাকড়ের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া পুরুষ শুণ্য বাড়ি গুলো থেকে হালের গরু থেকে শুরু করে পানির টিউব ওয়েল পর্যন্ত লুট করা হয়েছে। অনেক মহিলাকে লাঞ্চিত হতে হয়েছে। শ্লীলতাহানীর চেষ্টাও চালিয়েছে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা। খাটে ঘুমিয়ে থাকা শিশুকে ফেলে দিয়েও লুটের ঘটনা ঘটেছে। এরফলে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে প্রলাপ গুনছেন। প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যাওয়া পুরুষ শণ্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওসি’র দাবি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। লুটপাটের কিছু মালামালও উদ্ধার করা গেছে। দফায় দফায় লুটপাট ও এই নির্যাতনের ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতনমহল। কোন সভ্য সমাজে এধরণের ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও অভিমত তাদের।
জানা যায় শুক্রবার সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে করে ওমর মোল্যা (৫৫) নামে এক কৃষক প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। তোজাম মাতবরের সমর্থক এই কৃষক পার্শ্ববর্তি বেরইল বাজার থেকে ফেরার পথে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ উবাইদুর বিশ্বাস সমর্থকরা কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার জের ধরেই ওমর মোল্যার সমর্থকরা রোবিবার সকাল পর্যন্ত প্রতিপক্ষের অন্তত: ২৫টি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামের ঘরে-ঘরে নারকীয় এই তান্ডব অব্যাহতভাবে চলায় নারী ও শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। শাহেদা বেগম নামে এক গৃহবধু জানান, খুনের খবর পাবার পরই গ্রামের অনেকেই হামলার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এই সুযোগে লাশ দাফনের আগেই তারা এ গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হামলা শুরু করে। তারা নির্বিচারে লুটপাট চালিয়েছে। বাধা দিতে যাওয়ায় গ্রামের মহিলাদেরকেও নানাভাবে নাজেহালের শিকার হতে হয়েছে। তারা খাট থেকে ঘুমের শিশুদের ফেলে দিয়ে বিছানা পর্যন্ত তুলে নিয়ে গেছে। জেবুন্নেসা নামে অপর এক গৃহবধু জানান, তাদের প্রতিপক্ষরা চুলার উপর থেকে ভাতের হাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেছে। শিশুদের খাবার তৈরির করার মতো কোন পাত্র তারা রেখে যায়নি। ওই এলাকার উবাইদুর বিশ্বাস সমর্থিত গ্রুপের অপর নেতা আবুল বাসার নানুœ জানান, দুইদিন ধরে একাত্তরের মতো লুটপাট চালানো হয়েছে। দিনে দুপুরে এ রসুল মিয়ার ৯টি হালের বলদ তারা খুলে নিয়ে গেছে। একই ভাবে ধীরেনের ৮টি, আবুলের ৩টি, মোস্তফার ৩টি, জয়নালের ২টি, শফি বিশ্বাসের ২টি, আজাদুলের ৩টি, গোলাপদি বিশ্বাসের ৫ টিসহ প্রায় ৫০টি গরু ও ২০টি স্যালোম্যাশিন লুট হয়েছে। নির্বিচারে বাড়ি ঘর ভাংচুরের পাশাপাশি তারা নগদ টাকা, মূল্যবান গহনা, মসুরি, সরিসা, ধান-চাল, গম, আসবাবপত্র এমনকি পানি খাওয়ার টিওউবয়েল পর্যন্ত তুলে নিয়ে গেছে।
এবিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লুট হওয়া গরুর মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।

শেয়ার