আজ যশোরের বারান্দীপাড়া ট্রাজেডি দিবস ॥ ১৬ মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী

gonohotta
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আজ ২৮ এপ্রিল যশোরের বারান্দীপাড়া ট্রাজেডি দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোষররা পূর্ব বারান্দীপাড়ায় প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য বিশিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়া সংগঠক শহীদ আব্দুল জব্বারসহ মোট ১৬ জনকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় অন্যান্য শহীদরা হলেন, আব্দুল লতিফ, আব্দুল আজিজ, সাদেক পাটোয়ারি, আব্দুল গণি, মোজাম্মেল হক, কেতাব আলী, আযব আলী, শামসুদ্দিন, নজরুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী, তোফাজ্জেল হোসেন, শুকুর ও আজিজুল হক। এ ছাড়াও এপ্রিল মাসে ওই এলাকায় রিজাউল হক, তবিবর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক সর্দর, আব্দুস সামাদ, আব্দুল মালেক, হোসেন আলী, প্রমুখ শহীদ হন।
জেলা জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অশোক রায় জানান, জেলা শান্তি কমিটির এক শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দের বাসস্থান। বারান্দীপাড়ায় হওয়ার কারণে পাকহানাদার বাহিনী ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে মুক্তিকামীদের নিধনকল্পে তালিকা প্রস্তুত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালে ২৮ এপ্রিল বারান্দীপাড়া এলাকা ব্লক দিয়ে শহীদ আব্দুল জব্বার ও শহীদ আব্দুল লতিফসহ ১৬ জন মুক্তিকামীদের ধরে নিয়ে যায়। পরে আর তাদের সন্ধান মেলেনি। শহীদদের স্বজনদের দাবি তারা সকলেই পাকবাহিনী ও অবাঙ্গালিদের দ্বারা অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে নৃশংস হত্যকাণ্ডের শিকার হন। এ ভাবেই তারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।
শহীদ আব্দুল জব্বার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের পদস্থ কর্মচারী হওয়া সত্বেও ৭১ সালে ৭ মার্চের পরে অসহযোগ আন্দোলনে ভূমিকা রাখে। তিনি যুবকদের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেন। তার বাসভবনে বিশিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম আব্দুস সালামসহ ইপিআর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে পাকহানাদার খতম করে।

শেয়ার