সহযোগিতা প্রসারে মন্ত্রিপরিষদ সচিবরা একমত

cabinet
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দারিদ্র্যকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার জন্য চাই তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। আর এর মধ্য দিয়ে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

এসব বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রিপরিষদ সচিবরা।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক দেশগুলোর মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের দ্বিতীয় সভা শেষে একথা জানিয়েছেন সভার সভাপতি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা।

রোববার বিকেলে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে সংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি।

সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা এসময় উপস্থিত চিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০১৫ সালে তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানে এবং ২০১৬ সালে চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে নেপালে জানান দ্বিতীয় সভার সভাপতি।

দু’দিনব্যাপী সভায় সার্ক দেশগুলোর মধ্যকার আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, সার্ক দেশের প্রেক্ষাপটে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, নিজ নিজ দেশে ই-গর্ভনেন্স সম্প্রসারণে আলোচনা হয়েছে।

দারিদ্র্যকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহায়তা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়ে-শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমতা এনেছে। বাংলাদেশ একটা মডেল।

এছাড়া সিভিল সার্ভিস সংস্কার করে কীভাবে তা নাগরিকবান্ধব করা যায়; অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন তথা সামষ্টিক অর্থনীতির যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা যায়, সেটিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

সার্ক দেশগুলোর প্রেক্ষাপটে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন; শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো; নারীর ক্ষমতায়ন; দুর্নীতি প্রতিরোধ; আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভুক্তকরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গ্রস ডোমেস্টিক ন্যাশনাল প্রোডাক্টের ধারণা দিয়েছে ভুটান।

এছাড়াও বেস্ট প্রাকটিস বা নিজ নিজ দেশের উত্তম চর্চাসমূহ বিনিময় করে সবাইকে আরো কীভাবে জানানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যাপারে স্বাগতিক দেশের সহযোগিতা নিয়ে আরো আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

দুই দিনের সভা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে সভাপতি বলেন, অংশগ্রহণকারীরা খুবই মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তারা যে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সে সমস্ত সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে। সবাই আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো জোরদার করতে চান। যার যার ভূমিকা আরো বাড়াতে চান।

২৪ জন ডেলিগেট অংশ নিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, এর মধ্যে আটজনই বাংলাদেশের।

এ সভায় দ্বিপাক্ষিক কোনো বিষয় আলোচনা হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুদিনের সভার শুরুতেই স্বাগতিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয় জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্যকে অভিন্ন শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একযোগে তা মোকাবেলার কথা বলেছেন।

এছাড়া সরকারের কর্মকা- বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করবে সার্ক দেশগুলোর মন্ত্রিপরিষদ সচিবরা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটাই আশা করেছেন।

সভায় আটটি দেশের মধ্যে আর্থিক সংকটের কারণে মালদ্বীপ অংশগ্রহণ করেনি। একই কারণে ঢাকার অফিসও তারা তুলে নিয়েছে।

লক্ষ্য পূরণে সার্ক কতটুকু সফল হয়েছে জানতে চাইলে সার্ক মহাসচিব বলেন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সন্ত্রাস দমন, কানেক্টিভিটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এসবের জন্য অনেক চুক্তি হয়েছে। আমরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে অনেক কাজ করেছে সার্ক। ইউরোপের মতো সার্বভৌম বিকিয়ে দেয়নি।

তিনি বলেন, যদি আমরা দারিদ্র্য দূরীকরণ, কানেক্টিভিটি, বিদ্যুৎ সমস্যার ইস্যুগুলো উপস্থাপন করি, তাহলে ভবিষ্যতে আরো উন্নয়ন করা সম্ভব। যে লক্ষ্য নিয়ে সার্ক গঠিত, সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো।

আটটি সদস্য দেশ এবং নয়টি পর্যবেক্ষক দেশের সমন্বয়ে সার্ক-এর যে ধরনের ভূমিকা রাখা দরকার, তা হচ্ছে না উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, নয়টি অবজারভার দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন এবং কোরিয়া সক্রিয়। বাকিরা সক্রিয় নয়।

সভার কার্যসূচি তুলে ধরে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, সাতটি দেশ নিজ নিজ দেশের সার্বিক অবস্থা বিশেষ করে উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বাস্তবায়ন সন্তোষজনক।

তবে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান দ্বিতীয় সভার সভাপতি।

শেয়ার