ফ্লেক্সিলোডে প্রেমের ফাঁদ

RAB
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ৫০ টাকা ফ্লেক্সিলোড পাঠিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয় রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজের ছাত্র রাজিবকে।
রোববার বিকেলে রাজিবের অপহরণকারী চক্রটিকে গ্রেফতারের পর র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানা যায়। রাজিব সংবাদ সম্মেলনে অপহরণ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চক্রটি রাজিবের মোবাইল নম্বরে মোনামি নামের এক মেয়েকে দিয়ে টাকা পাঠিয়ে এ ফাঁদ পাতে।
মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় ২৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করেন রাজিবের বাবা রঞ্জু আহমেদ। তবে র‌্যাব পুরো চক্রকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই এক পর্যায়ে গ্রেফতার হয় চক্রটি। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় মুক্তিপণের ২৪ লাখ টাকার মধ্যে ৭ লাখ টাকা।
রাজিব সাংবাদিকদের জানান, কয়েকমাস আগে তার মোবাইল নম্বরে ৫০ টাকা ফ্লেক্সিলোড আসে। এরপর এক মেয়ে (মোনামি) ফোন করে জানায়, টাকাটা ভুল নম্বরে চলে গেছে রিটার্ন করে দিয়েন।
রাজিব জানায়, এরপর থেকে মোনামি তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ফোনে কথা বলতো। এসময় মোনামি জানায়, সে ক্লাস টেনে পড়ে। থাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে। এক পর্যায়ে দেখা করার কথা বলে।
মোনামি তাকে জানায়, ৮ এপ্রিল এয়ারপোর্টে দেখা করবে। তার কথায় রাজি হয়ে এয়ারপোর্টে যায় রাজিব। সেখানেই ৩/৪ যুবক তাকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে টাঙ্গাইল যমুনা নদীর কাছে চলে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এটিএম হাবিবুর রহমান জানান, চক্রটি খুব সুক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা করে। রাজিবকে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী তার আপন চাচাতো ভাই মীর নোমান সালেহীন ওরফে তরুণ। তারই পরিকল্পনায় সুমাইয়া শারমিন মোনামিকে দিয়ে প্রেমের ফাঁদ ফেলে অভিনব কায়দায় রাজিবকে অপহরণ করা হয়।
তিনি জানান, রাজিবকে অপহরণের ঘটনা জানার পর থেকেই র‌্যাব কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে রাজিবের বাবা ছেলের জীবন বিপন্ন হতে পারে এমন আশঙ্কাতে কাউকে কিছু না বলে দাবিকৃত মুক্তিপণ ২৪ লাখ টাকা দিয়ে ১১ এপ্রিল রাজিবকে মুক্ত করে আনেন। কিন্তু র‌্যাব গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
এক পর্যায়ে র‌্যাব ১ এর একটি দল জানতে পারে, এ অপহরণের অন্যতম হোতা মাসুদ রানা রাজধানীর ডেমরা এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে সেখান থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর থানার নাগরপুর এলাকা থেকে অপহৃত রাজিবের চাচাতো ভাই মীর নোমান সালেহীন ওরফে তরুণ, মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু, এরশাদ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, লেবু মিয়া, ওসমান গনি এবং অপহরণের ফাঁদ পাতা মেয়ে সুমাইয়া শারমিন মোনামিকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, মুক্তিপণের টাকা পেয়ে অপহরণকারী চক্র সেটি ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। তবে প্রায় ৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, অপহরণকারী চক্রটি নিপুণতার সঙ্গে তাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে। রাজিবকে অপহরণের পর তারা টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর কাছের এক চরে নিয়ে যায়। তারা তিন দিন রাজিবকে নৌকার মধ্যে আটক রাখে। আর এই তিনদিন রাজিবের বাবার গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য তরুণ কৌশলে রাজিবের বাসায় অবস্থান করে।
তিনি বলেন, অপহরণকারী চক্র নানা উপায়ে কখনো প্রেমিকার ফাঁদ পেতে, কখনো অস্ত্রের মুখে এ ধরনের কাজ করে থাকে। তবে সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার এ ধরনের অপহরণের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনরাই বেশি জড়িত থাকে। আর এ কারণে সবসময় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে।

শেয়ার