প্রচণ্ড গরম আর পানি সংকটে সাতক্ষীরায় অধিকাংশ চিংড়ি ঘেরে মাছ যাচ্ছে

gher
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা ॥ বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল সাতীরা। বর্তমানে প্রচন্ড তাপমাত্রা ও তীব্র পানি সংকটের ফলে এ জেলার অধিকাংশ ঘেরে ব্যাপক হারে চিংড়ি পোনা মারা যাচ্ছে। জেলার ৭৬ হাজার ৫২ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ করা হয়ে থাকে।
জানা যায়, শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, তালা ও সাতক্ষীরা সদরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে প্রচন্ড তাপদাহ আর পানি সংকটে অধিকাংশ ঘেরের মাছ মরে যাচ্ছে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চিংড়ি ঘের মালিক আব্দুল মান্নান জানান, এ এলাকার অধিকাংশ ঘেরে প্রয়োজনীয় পানি নেই। প্রচন্ড গরমে পানি কমে যাচ্ছে। ফলে পানিস্বল্পতায় ঘেরের মাছ মরে যাচ্ছে।
দেবহাটা উপজেলার ঘের মালিক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, তার ঘেরে অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে মাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া প্রচন্ড গরমের ফলে মাছের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা যাচ্ছে। আশাশুনি উপজেলার ঘের মালিক মঞ্জুরুল হুদা জানান, এবছর মাছ ছাড়ার কিছুদিন পর থেকেই গরম শুরু হওয়ায় মাছ মরে যেতে শুরু করেছে। কিছুদিন পরে যে মাছ বিক্রি করার কথা সে মাছের গায়ে সাদা সাদা এক ধরনের ঘা দেখা যাচ্ছে। আবার নতুন করে মাছ ছাড়ার কথা ভাবছেন এলাকার ঘের মালিকরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল অদুদ জানান, জেলার ৭৬ হাজার ৫২ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বাগদা ৬৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর এবং গলদা ৯ হাজার ৩১৭ হেক্টর। চিংড়ি বা অন্যান্য মাছের খামারে সাধারণত তিন থেকে চার ফুট পানি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু প্রচন্ড গরম বা তাপদাহে পানির স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। অনেক ঘেরে এক ফুটের কম পানি আছে। মাটি ও পানির প্রচন্ড তাপের ফলে অক্সিজেন সংকটে পানি দূষিত হয়ে মাছ মরে যাচ্ছে। এ ছাড়া হিট স্ট্রোকেও মাছ মরে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। এতে জেলার চিংড়ির তির পরিমাণ ১০% বলে তিনি জানান।

শেয়ার