তীব্র দাবদাহে পুড়ছে বেনাপোল ॥ শ্রমিকদের নাভিশ্বাস

dabdah
বেনাপোল প্রতিনিধি॥ তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দণি-পশ্চিম সীমান্তের বেনাপোল জনপদ। বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের নাভিশ্বাস গেছে বেড়ে। স্মরণকালে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন যশোরে। বৃহস্পতিবার যশোরের তাপমাত্রা পৌঁছে ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
মাত্রাতিরিক্ত গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। মানুষ রাস্তায় বেরুতে পারছে না। গায়ে ফোসকা ওঠার মতো লু হাওয়া বইছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। মৌসুমি ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকালের স্বাভাবিক সময়কাল শেষ হতে না হতেই ব্যাপকহারে সূর্যের তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে শহর ও বন্দর অঞ্চলের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে যানবাহনের সংখ্যা। দোকানপাট ও অফিস-আদালত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আগে ভাগে। প্রচন্ড রোদ ও গরমের মধ্যে বেনাপোল বন্দরে মালামাল ওঠানামা করতে হিমশিম খাচ্ছেন বন্দর শ্রমিকরা। গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা তে-খামারে কাজ শুরু করছেন খুব ভোরে। দুপুরের আগেই তারা তে ছাড়ছেন। আবার বিকেলে রোদের তাপ না কমা পর্যন্ত তারা মাঠে নামতে পারছেন না। যশোরের মতিউর রহমান বিমানঘাঁটির আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে যশোরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। মঙ্গলবার এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৪ ডিগ্রি। বুধবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১.৬ ডিগ্রিতে। আর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাপমাত্রা ওঠে ৪২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ তাপমাত্রা সম্প্রতি সময়ের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতরটি।
দু-একদিনের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির কোনো লণ নেই। ফলে তাপমাত্রা নামার কোনো সম্ভাবনাও তারা দেখছেন না। এক সপ্তাহ ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। তবে শ্রমজীবীদের বাইরে বেরুতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে।বেনাপোল বন্দর শ্রমিকরা দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে পারছেন না। বন্দর শেড থেকে পন্য ওঠানামা করলেও ওপেন ইয়ার্ড গুলোতে শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না বলে জানান শ্রমিক নেতা শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, গাছের ছায়া বা অন্য কোথাও তারা দীর্ঘসময় ধরে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন। রাস্তায় শরবত বা আইসক্রিম খেয়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে শ্রমজীবী মানুষকে।
কথা হয় বেনাপোলের ভ্যান চালক মুনছুর আলির সাথে। তিনি বলেন, ‘এত গরমে ভ্যান চালাতি পারছিনে। পেটের দায়ে আইছি। বাতাস নরম থাকতি থাকতি যে ক’টাকা হয় তাই নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো।’
শার্শা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (পানি) মিজানুর রহমান জানান, পানির স্তর ২৭-২৮ ফুট নিচে নামলে হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠে না। এখন শার্শা, বেনাপোল, বাগআচড়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর গড়ে প্রায় ৩৫ ফুট নিচে অবস্থান করছে। ফলে নলকূপে পানি উঠার কথা নয়। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, প্রাকৃতিক জলাধারগুলোতে পানির প্রবাহ না থাকায় বোরো চাষ এখন পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। বিপুল পরিমাণ পানি মাটির নিচ থেকে উঠানোর কারণে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এ অঞ্চলের নলকূপগুলো অকেজো হওয়া শুরু হয়। বোরো েেত সেচ দেওয়া শেষ হতে না হতেই কমবেশি বৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির জন্য চারদিকে হাহাকার শুরু হয়েছে। শার্শা উপজেলা হাসপাতালের ডা. ইাসির উদ্দিন জানান, তীব্র তাপপ্রবাহে ত্বক ও ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এই ধরনের রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

শেয়ার