চাপ কমানো, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো শেখাচ্ছেন আলী

Ali Ajgar khan
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তৃতীয় দিনের মতো মনস্তাত্ত্বিক ক্লাসে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দুর্বল মনকে সবল বানানোর কৌশল শেষ করলেন মনোবিদ আলী আজহার খান। শনিবার ওয়ান টু ওয়ান ক্লাসে ছিলেন রুবেল হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, সৌম্য সরকার, এনামুল হক জুনিয়র, ইমরুল কায়েস, আরাফাত সানি ও এনামুল হক বিজয়।

খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের কমতি দেখছেন এই মনোবিদ। আর চাপের সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করে নিজেকে ফিট করা যায় সেটাও শেখাচ্ছেন।

এমন একটি কর্মসূচি আরও আগেই নিলে ভালো হতো মনে করেন আলী,‘খেলোয়ড়দের জন্যে মনস্তাত্ত্বিক ক্লাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আরও আগে করতে পারলে ভালো হতো।’

ক্লাসের তৃতীয় দিনে শেখানো বিষয়গুলো নিয়ে কানাডা প্রবাসী মনোবিদ বলেন,‘আমরা ওদের মাত্র শিখিয়ে দিচ্ছি। ওদের সবার লক্ষ্য এক না, লক্ষ্য অর্জনের জন্যে যে পরিকল্পনা দরকার সেটা তৈরি করে দিচ্ছে। কীভাবে রুটিন অনুযায়ী কাজ করবে এরপর ভিত্তি করে আমি ছয় মাস বা এক বছরের একটি পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি।’

ক্রিকেটাররা এই সেশনগুলোতে নিজেদের দুর্বলতা বুঝতে পেরেছে জানালেন তিনি,‘দ্বিতীয়ত সবারই এমন কিছু পরিস্থিতি আছে যেগুলোতে তারা কম বেশি দুর্বল। আগের পরিসংখ্যান দেখে তারা সবাই মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে। তখন তাদের মানসিক অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। তারা বুঝতে পেরেছ মানসিক শক্তি তাদের উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে। ওই অবস্থা থেকে তারা এখন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আমি খুব খুশি যে আমি ওদের কাজে আসতে পেরেছি।’

আত্মবিশ্বাসের পর্যায় বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি,‘আত্মবিশ্বাস হঠাৎ করে তৈরি করা যায় না। এটা শরীর ও মনের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়।’

আত্মবিশ্বাস কম থাকার কারণে দল কৌশলগত দিক থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে এমনটি মনে করেন আলী,‘আত্মবিশ্বাস হওয়া না হওয়ার পেছনে উত্স একটাই, আত্মবিশ্বাসের অনুশীলন না করা। আত্মবিশ্বাস কোনো বাজারের পণ্য না যে কিনে খেয়ে ফেলবেন। একটা সময় আসতে পারে, আপনি যখন অনেক পরিশ্রমী হবেন তখন শরীর ও মনের থেকে একটা আত্মবিশ্বাস আসতে পারে। আমাদের ক্রিকেটাদের আত্মবিশ্বাস শূন্য পর্যায়ে না। অবশ্যই তাদের আত্মবিশ্বাস আছে। কিন্তু তাদের আত্মবিশ্বাস বিশ্বের অন্য জাতির সঙ্গে তুলনা করলে অনেক কম।’

মিডিয়ার চাপ খেলোয়ড়দের জন্যে কতটুকু চাপ সৃষ্টি করে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,‘সত্যি কথা বলতে মিডিয়ার চাপ অনেক চাপ। আমি যদি মনে করি এতোগুলো ক্যামেরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে তাহলে আমার কেমন লাগবে। এটা নির্ভর করবে আমি কিভাবে এটা গ্রহণ করবো। আসলে মিডিয়ার কারণে মানুষ জানতে পারে কে সাকিব, তামিম, মুশফিক। দেশবাসী এটা জানতে চায়। আসলে তারা চায় ভালোটা মানুষ জানুক। কিন্তু চাপটা কিভাবে নিতে হয় সেটা তারা জানে না।’

‘আমি কিছু জিনিস শিখিয়ে দিয়েছি যেগুলো কয়েকবার করে অনুশীলন করতে হবে। এগুলো তিন মাস করবে। এতে করেই এই জিনিসটা তাদের আয়ত্তে চলে আসবে’, যোগ করেন তিনি।

যেসব সমস্যাগুলো নিয়ে খেলোয়াড়রা বেশি বলেছে সেগুলো সম্পর্কে আলী,‘যখন তারা চাপ না নিয়ে খেলছে তখন তারা ভালো করছে। আর যখন অতিরিক্ত কোনো চাপ আসছে তখনই তারা খারাপ খেলছে। অনেক সময় খেলোয়াড়দের চিন্তা থাকে পরবর্তী ম্যাচে দলে থাকা না থাকা নিয়ে। এসব চিন্তাও তাদের পারফরমেন্সে প্রভাব ফেলে।’

মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলাও খেলোয়াড়দের জন্য চাপ হয়ে যাচ্ছে জানতে পেরেছেন আলী। চাপ জিনিসটা খুব বেশিই খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সে প্রভাব ফেলছে মনে করেন এই মনোবিদ।

শেয়ার