হাজারো কণ্ঠে রানার ফাঁসি দাবি

Rana Plaza
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইতিহাসের ভয়াবহতম শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধসের বর্ষপূর্তিতে সকাল থেকেই রাজধানীসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এসব কর্মসূচিতে তৈরি পোশাক শ্রমিক, মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়।

সাভার ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক মিছিল নিয়ে এসে এদিন রানা প্লাজার সামনে নিহত শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জানান।

হারিযে যাওয়া পরিবারের সদস্যকে স্মরণ করে রানা প্লাজার সামনে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় অনেক স্বজনকে। পাশাপাশি সহকর্মীদের শ্রদ্ধা জানাতে এসে অনেক আহত ও পঙ্গু শ্রমিকও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এছাড়াও শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও আসেন। সাভার ও আশপাশের এলাকার সব পথ যেন এদিন মিশেছিলো ইতিহাসের সাী রানা প্লাজার সামনে এসে।

সকলেই নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখানে আয়োজন করা হয় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত ও স্মরণসভার।

রানা প্লাজার সামনে আগতরা সবাই এদিন এ ঘটনায় হতাহতদের উপযুক্ত তিপূরণের পাশাপাশি হাজারো কণ্ঠে বহুতল ভবনটির মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানার ফাঁসির দাবি জানান।

এ দাবিতে রানা প্লাজার সামনে আগতরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন।

তারা রানা প্লাজা ধসে নিখোঁজ শ্রমিকদের সঠিক তালিকা প্রকাশসহ তিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে খণ্ড খণ্ড বিােভ-মিছিল ও সমাবেশ করেন।

মিছিলকারীদের সুবিধার্থে ঢাকা-আরিচা মহসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের রানা প্লাজার সামনের একপাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

এ সময় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ভবন ধসের ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টায় বহুতল বাণিজ্যিক ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে ১ হাজার ১৩৮ জন নিহত ও আড়াই হাজারেরও বেশি শ্রমিক আহত হন।

ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও উপযুক্ত তিপূরণ না পাবার অভিযোগ আছে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের প থেকে।

শেয়ার