শাস্তি পাচ্ছে দুই শতাধিক হজ এজেন্সি

Hoj
সমাজের কথা ডেস্ক॥ মানব পাচারসহ হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার মতো নানা অভিযোগে দুই শতাধিক হজ এজেন্সিকে শাস্তির আওতায় আনছে সরকার।

বিভিন্ন অপরাধে লাইসেন্স বাতিলসহ অর্থদ- করা হয়েছে অন্তত ২১৭টি হজ এজেন্সিকে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মুসলমানদের বৃহত্তম জমায়েত ‘হজ’ অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ১৪ অক্টোবর (৯ জিলহজ)। ১৬ অক্টোবর কুরবানির মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

হজ অফিস জানায়, সর্বশেষ এই হজ মৌসুমে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ৮৫৪ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান।

প্রতিবারের মতো এই বছরের হজ মৌসুমেও বেশ কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে হজে না পাঠানো, পাঠিয়ে ফিরিয়ে না আনাসহ গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সৌদি আরব ও বাংলাদেশে আনিত অভিযোগের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।

গত ৪ থেকে ৬ এপ্রিল তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ১৯৪টি এজেন্সির শুনানি করে। এর প্রায় সবগুলোর বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব আরো ৪০টি এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শাস্তির পরামর্শ দেয়।

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (হজ) জাহাঙ্গীর আলম বুধবার বাংলানিউজকে বলেন, ২১৭টি এজেন্সির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের গুরুতর থেকে লঘু শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

তবে কোন অপরাধে কতটি এজেন্সিকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তা না জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে হজের নামে মানবপাচার, যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা না করা, একই রুমে গাদাগাদি করে রাখা, পর্যাপ্ত গাইড না রাখা, নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে (২০ শতাংশ ফিরে না আসা) ৪/৫টি এজেন্সি শাস্তি পাচ্ছে। এ এজেন্সিগুলোর জামানত বাজেয়াপ্তসহ হজ লাইসেন্স বাতিল, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া ১০ শতাংশের কম ফিরে না আসা, নিম্নমানের বাড়িতে রাখা, খাবারের নিম্নমান, এক বাড়িতে রেখে অন্য বাড়িতে স্থানান্তরের (ফিতরা) অপরাধে প্রায় দুইশ’ এজেন্সিকে বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত ও জামানতের টাকা কেটে নেওয়া হবে।

শেয়ার