মাত্র ১৫ সেকেন্ডেই প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে চ্যাম্পিয়ন দিদার

boli
সমাজের কথা ডেস্ক॥ চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১৫ সেকেন্ডেই প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে নবমবারের মতো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলায় শিরোপা জিতেছেন কক্সবাজারের দিদার বলী।
এর আগে সেমিফাইনালে বান্দবানের হ্লা প্রু মারমাকে তিন মিনিটে পরাজিত করে রামুর দিদারুল আলম ওরফে দিদার বলী।
আর কুতুবদিয়ার খোরশেদ শিকদারকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাবিবুর রহমান।
এ বছর মেলার ১০৫তম আসরে অংশ নেয় ১০৩ জন প্রতিযোগী। এর মধ্যে শিশুরাও যেমন রয়েছে, তেমনি ছিল ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধও। তবে এবার অংশ নেয়নি গতবার দ্বিতীয় স্থান দখল করা অলী।
শুক্রবার বিকাল ৪টায় ঢোলের তালে, হাজারো মানুষের করতালিতে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’র বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ।
খেলা শেষে বিজয়ী দিদারের হাতে ১৫ হাজার টাকার চেক ও ট্রফি তুলে দেয়া হয়।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার, বাংলালিংকের রিজিওনাল কমার্শিয়াল হেড ফরহাদ হোসেন, মেলা কমিটির সভাপতি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারি, সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল।

বলী খেলায় রানার আপ হাবিবুর রহমানকে দেয়া হয় নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি ক্রেস্ট। এছাড়া প্রথম পর্বে বিজয়ী সব লড়িয়েকেই নগদ পাঁচশ টাকা করে দেয়া হয় মেলা কমিটির পক্ষ থেকে।

১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করতে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার আয়োজন করেন কুস্তি প্রতিযোগিতা। আর এ বলীখেলাকে ঘিরেই শুরু হয় বৈশাখী মেলা, যা পরিণত হয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের মেলায়।

এবারের তিনদিনের মেলা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে, চলবে শনিবার পর্যন্ত। লালদীঘি মাঠের আশপাশের এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসেছে এ মেলা।

তীব্র গরম উপেক্ষা করে মেলায় আসছেন নানা বয়সী মানুষ।

লালদীঘি মাঠ, কে সি দে সড়ক, সিনেমা প্যালেস, কোতোয়ালী মোড়, জেল রোড, হাজারী গলি হয়ে আন্দরকিল্লার মোড়ের কাছাকাছি পর্যন্ত ছড়িয়েছে মেলার পরিধি।

কাঠ-বাঁশ-পলিথিনে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী দোকান। সড়কের ওপর চৌকি পেতে তাতে বাহারি সব পণ্য নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।

মাটির খেলনা, তাল পাখা, পুতুল, ফুলদানি, মাটির হাড়ি-পাতিল, মাছ ধরার চাঁই, মাটি-কাঠ-লোহার তৈজসপত্র, কাঠ-বাঁশ-বেতের আসবাব, ঝাড়–, কুলা, শীতল পাটি, পলো, মুড়ি-মুড়কি, নাড়ু, গাছের চারা, দা-বঁটি, দেশি ফলসহ মেলায় উঠেছে হাজারো রকমের পণ্য।

শেয়ার