ফলোআপ ॥ জীবননগরে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সৃষ্টি করে স্কুলছাত্রীর বিয়ে ॥ বেসামাল কাজী হাসেম আলীর কেরামতির দিন শেষ হতে যাচ্ছে

folo up
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ জীবননগরে একটি বাল্য বিয়ের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর হাসেম আলী নামে এক কাজীর দৌঁড়-ঝাপ শুরু হয়েছে। স্কুলের চাকুরি ও কাজীর লাইসেন্স রক্ষাসহ গ্রেফতার ও জেল জরিমানা এড়াতে বহুল আলোচিত এই হাসেম বিভিন্ন মহলে কাড়ি-কাড়ি টাকা ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আর এই সুযোগে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি মহল তাকে রক্ষার অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। তবে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকারের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। তাদের গোপন তদন্তে ইতিমধ্যে কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে পড়েছে। এরফলে কাজীর কেরামতি শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে।
গত ১৬ এপ্রিল বিয়ের পিড়িতে বসানো হয় জীবননগর উপজেলার আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সোহাগী (১৪) কে। সে উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের বাকামিলপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে। প্রতিবেশিরা অভিযোগ করেন সোহাগীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে এবং ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ সৃষ্টি করে বিয়ে দেয়া হয়েছে মহেশপুর উজেলার জলিলপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সুমনের সাথে। পাত্র দেখাশোনা. পছন্দ ও বিয়ে ঠিকঠাক থেকে শুরু করে ভুয়া এবং জালজালিয়াতিপূর্ণ কাগজপত্র সৃষ্টির পুরো দায়িত্ব পালন করেন ছাত্রীর স্কুল শিক্ষক হাসেম আলী। তিনি শুধু শিক্ষকই নন. বিয়ের কাজীও বটে। বিয়ে পড়ানোর কাজটিও করেন বহু অপকর্মের হোতা এই কাজী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেশিরা অভিযোগ করেন এবিয়েতে রাজী ছিল না সোহাগী। তার পিতা লিয়াকত ও মা কওর বানুর চেয়েছিলেন মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বড় চাকুরি করবেন কিন্তু অর্থলোভী ও জামাতী কাজী হাসেম তা হতে দেননি। নানা রকম শলা পরামর্শ দিয়ে সোহাগীর পিতাকে রাজী করিয়ে তিনি দু’পক্ষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের হাদিয়া। সুত্রের দাবি সোহাগী কবুল পর্যন্ত পড়েনি কিন্তু কাজী পড়িয়েছেন বিয়ে ! এদিকে বিষয়টি ফাঁসের পর দৈনিক সমাজের কথার জীবননগর প্রতিনিধি সরেজমিন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। যা ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। এতে দৌঁড়-ঝাপ শুরু হয়ে যায় কাজীর। চাকুরি চলে যাবে. বাতিল হবে কাজীর লাইসেন্স এমনকি জেল খাটতেও হতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয় কয়েকটি অখ্যাত পত্রিকায় ম্যানেজ ফর্মুলায় সিন্ডিকেট সংবাদ ছাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তে ভুয়া কাগজপত্রে বাল্য বিয়ে পড়ানোর সত্যতা পেয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে কাজী হাসেম অনন্ত এ দফায় পার পাবেন না বলেই সুত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। সুত্রমতে মোটা অংকের টাকা ছড়িয়ে ভুয়া ও মনগড়া সিন্ডিকেট সংবাদ প্রকাশের সত্যতাও বেরিয়ে এসেছে একটি সংস্থার তদন্তে। একই সাথে কাজীর নানা অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসছে। সুত্রমতে কাজীর কেরামতি শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে। জীবননগর থানার ওসি এসএম ইকবাল জানান পুলিশের তদন্তে বাল্য বিয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। কাজী হাসেম এখন পার পেতে মনগড়া তথ্য প্রচার করছেন

শেয়ার