তুলারামপুরে সন্ত্রাসী হাসান মোল্লার বিরুদ্ধে পুলিশের হেড কোয়ার্টারে অভিযোগ॥ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ

ovijog
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নড়াইল সদরের তুলারামপুরে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, একাধিক মামলার আসামি হাসান মোল্লার বিরুদ্ধে পুলিশের হেড কোয়ার্টার থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নড়াইল পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১৩ মার্চ পুলিশের এআইজি স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের তুলারামপুর ইউনিয়নের হাসান মোল্লার রিরুদ্ধে এলাকাবাসীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযোগ দেয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে যশোর-খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ দায়ের করার পর সন্ত্রাসী হাসান বাহিনীর সদস্যরা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এআইজি (ক্রাইম-ওয়েস্ট) রেবেকা সুলতানা ১৩ মার্চ নড়াইল পুলিশ সুপারকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং গৃহীত ব্যবস্থা পুলিশ হেডকোয়ার্টারে জানানোর কথা হয়। এদিকে পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকে ওই নির্দেশ আসায় বেসামাল হয়ে পড়েছে হাসান মোল্লা ও তার বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সব রকমের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
নড়াইল সদরের তুলারামপুর গ্রামের জিকরি মোল্লার ছেলে হাসান আলী রূপগঞ্জ বাজার একাধিক গ্রিলের দোকান রয়েছে। গ্রিলের ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ, দেশীয় অস্ত্র বিকিকিনি, নারী ও শিশু পাচার করে থাকে।
হাসান তুলারামপুর স্কুলগামী ছাত্রীদের প্রায় উত্ত্যক্ত করে। এছাড়া তুলারামপুর এলাকায় গৃহবধূদের উত্ত্যক্তের কথা সবাই জানলেও কেউ কোন প্রতিবাদ করে না। সে জামায়াত-শিবিরের তুলারামপুর চরপাড়ায় আল হেরা ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছে। সে একই গ্রামের গরীব দিনমজুর মোস্তফার বাড়ি ভেঙে দিয়ে তার স্ত্রী, মেয়েদের শারিরীক নির্যাতন করেছে। এ ঘটনায় তারা মামলা দায়ের করলে তাদের জীবননাশের হুমকি দেয়। এছাড়া হাসানের নাম্বার বিহীন একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলে অচেনা নারী ও শিশুদের দেখা যায়। এলাকাবাসীর ধারণা, সে আন্তর্জাতিক নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা আকবার আলী মোল্লা, আব্দুল আওয়াল মোল্লা, নিসফার মোল্লা, তরিকুল মোল্লা, জাফর মোল্লা, কতৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে কয়েকটি জলাশয় ভোগ দখল করতে থাকলে হাসান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এ সময় তৎকালীন নড়াইল পুলিশ সুপার কামরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে জলাশয়গুলো মুক্ত হয়। এসব অভিযোগ তুলে ধরে এলাকাবাসী পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
উল্লেখ্য গত ১৬ জানুয়ারি দৈনিক সমাজের কথায় এ সংক্রান্তে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। উক্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার