কালীগঞ্জের গোপালপুর গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ॥ অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাট টিউবওয়েলে বিষ॥ পুরুষ শূন্য এলাকা

Kaligonj Bari Vang Chur Pic
নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ॥ সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পূর্বাঞ্চলের গোপালপুর গ্রামে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর মারপিট হামলা ও গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ভোট ৬ টা থেকে শুরু করে কয়েক দফায় এ ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। লাইলী বেগমসহ অনন্ত ৪/৫ জন মহিলা আহত হয়েছেন। বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে অনেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সরেজমিনে জানাগেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ২নং জামাল ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে মালেক মোল্ল্যা ও শরিফুল মেম্বার গ্রুপের মধ্যে গোলযোগ চলে আসছিল। বিগত সময় সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানের সমর্থক শরিফুল ইসলাম মেম্বার ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে মালেক মোল্ল্যা গ্রুপের সমর্থকদের কুপিয়ে জখম, বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, টিউবওয়েলের পাইপের মধ্যে বিষ ঢেলে দেয়া, মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানী, নির্যাতন করে তাদের ব্যাপক ক্ষতি করে। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার মালেক মোল্ল্যা গ্রুপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষ শরিফুল মেম্বারের সমর্থক মোফা খোড়া, শহর আলী, আমানত, আলম, দুদু, আফজাল, রাজ্জাক, শমসের, সিরাজ, বজলু, এলাহী, আইনাল, নিজাম, হামিদ, সাহেব আলী, মোলাম খা, পিস্টন, মোশাররফ মোল্ল্যা, জুমাত আলী, আনসার আলী, আব্দুল কাদের, বাবলু, আলা, শফি মোল্ল্যা, সাখাওয়াত, শওকত, রাজ্জাক, ঘেনা বাহিনীর ঘেনা, আলমগীর হায়দারসহ প্রায় অর্ধশত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট চালিয়েছে। এসব বাড়ি-ঘরের টিন,জানালা, দরজা, টালী, চেয়ার, টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, খাট, পালঙ্গ, সাব বাক্স, কুপিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। তছনছ করে দেয়া হয়েছে অন্যান্য ঘরের মালামাল। এ সময় ওই সব বাড়ির গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, কাঁতা,কাপড় লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বাড়ির গৃহিনীরা সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন। এছাড়া বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ধাণ চাল, ভাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা দেয়া হয়েছে। টিউবওয়েল মাথা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে পাইপ। এসব বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য নেই। সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বাড়ির গৃহিনীরা কান্না জড়িতে কণ্ঠে জানান, শুধু ভাংচুর ও লুটপাট নয় তারা বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন ফলজ গাছ কেটে দিয়েছে। হামলার সময় বাড়ির মহিলার দের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। ক্ষুধার্ত শিশুরা ভাতের জন্য কান্নাকাটি করছে। অথচ বাড়ির থালা বাসন পর্যন্ত তারা লুট করে নিয়ে গেছে। রান্নার করার মত কিছুই নেই এমন অভিযোগ লুট হয়ে যাওয়া বাড়ীর গৃহিনীদের। হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মালেক মোল্ল্যা জানান, বিগত ৬/৭ বছর যাবৎ শরিফুল মোল্ল্যার নেতৃত্বে ঘেনা বাহিনী তাদের পরিবারসহ সমর্থকদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুট পাটসহ হামলা মামলা দিয়ে নির্যাতন ও ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। এমনকি টিউবওয়েলের পাইপের মধ্যে বিষ ঢেলে দিয়েছে। যাতে কেউ পানি পর্যন্ত খেতে না পারে। এমন নৃশংস কর্মকান্ডে তাদের দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম থেকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। এরপরও তারা থেমে নেই। আবারও তাদের উপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে নির্যাতনে অতিষ্ঠ কিছু সমর্থকরা কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি এলাকাঘুরে ভাংচুর ও লুটপাট হওয়া বাড়ির তালিকা তৈরি করছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তীতে যাতে আর কোন হামলার ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ গোপালপুর গ্রামে টহল দিচ্ছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, হামলা ভাংচুরের খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে গোপালপুর গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলা চালিয়ে কতগুলি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করা হয়েছে তা বলতে পারেননি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি।

‘বাড়ি বসে বড় লোক” আউট সোর্সিং বিষয়ক প্রশিন অনুষ্ঠানে এমপি রনজিৎ রায়
তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান অর্জনে অর্থনৈতিক সাফল্য অনিবার্য//২
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি॥ জাতীয় সংসদ সদস্য যশোর -৪ আসনের এমপি রনজিৎ রায় বলেছেন, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান অর্জন করতে পারলে অর্থনৈতিক সাফল্য আসবেই। সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে এর প্রভাব পড়বে। আসবে স্বচ্ছলতা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অভয়নগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় আয়োজিত ”বাড়ী বসে বড় লোক” আউট সোর্সিং বিষয়ক প্রশিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মেহনাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল হক মোল্যা, টিএমএসএস’র কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য দুই দিন ব্যাপি আউট সোসিং প্রশিন অনুষ্ঠানে ৫০ জন নারী অংশ নেয়। প্রধান অতিথি এমপি রনজিৎ রায় আরও বলেন সমাজে নারীর মতায়নের পাশিপাশি তাদের তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সুÑশিায় শিতি করে তুলতে সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেকারনে তথ্য প্রযুক্তিতে দেশ গত ৫ বছরে অনেক এগিয়ে গেছে। সরকারের এই কাজে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

শেয়ার