এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা

frog
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ তাপদাহে অতীষ্ঠ মানুষ এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে। প্রচণ্ড গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন এক পশলা বৃষ্টি। যদিও বুধ ও বৃহস্পতিবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পর শুক্রবার ব্যারোমিটারের পারদ সামান্য নি¤œমুখী ছিল। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় ষাট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় উঠেছিল। পরদিন শুক্রবার রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে। তাপমাত্রা কমে আসার সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম শুক্রবার বিকেলে বলেন, হালকা বাতাস এবং আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টিও হয়েছে।
তিনি জানান, শুক্রবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বৃহস্পতিবার ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঢাকায়। একই দিন যশোরে তা ছিল ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃষ্টি কামনায় ব্যাঙের বিয়ে!

সমাজের কথা ডেস্ক॥

প্রচণ্ড তাপদাহে পুড়ছে গাইবান্ধা। গরমে হাঁসফাঁস করছে সব বয়সী মানুষ। বৃষ্টির দেখা নেই। এমন পরিস্থিতিতে জেলায় বৃষ্টি কামনায় ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে একদল কিশোর-কিশোরী।
শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গোপালপুর গ্রামে ব্যতিক্রধর্মী এ আয়োজনে মেতে ওঠে তারা।
ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি নামবে বলে তাদের বিশ্বাস। তাই বিয়ে উপলক্ষে সাজানো হয়েছিল চালন, কুলো, জ্বালানো হয়েছিল প্রদীপ। পান, সুপারি থেকে শুরু করে দুর্বা ঘাস, মিষ্টি, মাটির দলাসহ বিভিন্ন উপকরণ ছিল বিয়ের আয়োজনে।
বিয়ের আসরে দুই ব্যাঙের পক্ষের কিশোর কিশোরীরা নিজেরাও সেজেছিল বর্ণিল সাজে।
আগের দিন থেকে ধরে রাখা দু’টি ব্যাঙকেও রঙিন করে সাজানো হয়েছিল। বিয়ে উপলক্ষে তাদের নাচ আর থামছিল না।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই জলাশয়ে নব দম্পতিকে ছেড়ে দেয় তারা।
kocu pata
এর আগে ১৯৬০ সালে ঢাকায় ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল উঠেছিল ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্র ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত বছরের এপ্রিলের ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড ভঙ্গ করে।
১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে রেকর্ড ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল।
এদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, খুলনা, মংলা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে তীব্র তাপ প্রবাহ এবং দেশের অন্যত্র মাঝারী থেকে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
যদিও টানা কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর দেশের কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে ঠাণ্ডা বাতাস বইলেও বৃষ্টির অপেক্ষায় এখনো নগরবাসী। শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে বৃষ্টি না হলেও বিকাল থেকে বইছে ঠাণ্ডা বাতাস, কমছে তাপমাত্রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায় ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও।

“আজ থেকে দেশের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিও হবে, এসময় তাপমাত্রা আরো কমবে,” বলেছেন অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা আবুল কালাম মল্লিক।
শনিবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা ঝড়ো বৃষ্টিরও পূর্বাভাস দিয়েছে অধিদপ্তর।
আর আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সাথে সাথে অতিষ্ঠ মানুষও এখন চাতক পাখির মত বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছেন। সকলেরই প্রত্যাশা, স্বস্তির এক পশলা বৃষ্টি।

শেয়ার