স্বামী পাচ্ছেন না? কিনে নিন

shami

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিয়ে রসিকতার ব্যাপার নয়। এক সময় সবাইকেই বিয়ের বিষয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। যেমন – ‘বিয়ে কবে করছো?’ ‘বিয়ে হচ্ছে না কেন?’ এ প্রশ্ন যে কত অস্বস্তিকর, যার কাছে জানতে চাওয়া হয় তার মনে প্রশ্নটি যে কত চাপ তৈরি করে, তা কেউ ভাবেনই না।

কিন্তু মার্কিন তরুণী সুজানে হাইনৎস সেই বিয়ে নিয়েই রসিকতা করে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি নিজেকে দিয়েই শুরু করেছেন বিয়ে বিয়ে খেলার এক প্রকল্পের কাজ। মনের মতো করে স্বামী সন্তান বাজার থেকে কিনে নিজের পরিবার সাঁজিয়েছেন তিনি। তাদের নিয়ে ঘুরতে গেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গাতেও।

জানা যায়, বিয়ের চাপ থেকে মুক্তি পেতে ফটোগ্রাফার সুজানে কাপড়ের দোকানের পোশাক পরানো কিছু পুতুল অর্থাৎ ম্যানেকুইন্স দিয়ে সাঁজিয়েছেন নিজের পরিবার। স্বামীর পুতুলটির নাম রাখেন চাঙ্কি, মেয়ের নাম মেরি মার্গারেট। এরপর বিভিন্ন স্থানে পারিবারিক আবহ তৈরি করে তাদের সঙ্গে তুলেছেন ছবি। সেসব ছবি দেখলে মনে হবে ঠিক যেন সুখী পরিবার।

সুজানে যে শুধু নকল পরিবার বানিয়ে ছবিই তুলেছেন তা নয়। একই সঙ্গে যারা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতো তাদের কাছে পরিবারের ছবি, আবার সেই ছবি দিয়ে বানানো কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ দিনে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। এভাবে বিয়ে নিয়ে সবার সঙ্গে মজা করার প্রকল্পটির সুজানে নাম দিয়েছেন ‘প্লেয়িং হাউস প্রজেক্ট : লাইফ ওয়ান্স রিমুভড’।

এক সময় মনে হলো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বেড়াতে যাওয়া দরকার। বাজার থেকে কেনা পরিবারের সঙ্গে প্রথম সফরটা হলো তার প্যারিসে। সেখানে আইফেল টাওয়ার থেকে শুরু করে যত দর্শনীয় স্থান আছে সব জায়গায় গিয়েছেন সুজানে। চাঙ্কি আর মার্গারেটের সঙ্গে এমন সব ছবি তুলেছেন, যেন তারা সত্যি সত্যিই সুখী পরিবার।

প্যারিসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সুজানে বলেন, ‘আমি ছিলাম প্যারিসের বংশীবাদক। আমার পেছনে শত শত কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমেছিল।’

এদিকে সুজানে তার নকল পরিবারের ছবি ফেসবুকে দেয়ার পর থেকে তার কাছে সমব্যাথিরাও যোগাযোগ করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বিয়ে নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা সুজানেকে জানাচ্ছেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। এমন কি বিয়ে হচ্ছে না এমন পুরুষরাও কথা বলছেন সুজানের সঙ্গে।

এ বিষয়ে সুজানে হাইনৎস বলেন, ‘প্লেয়িং হাউস শুধু মেয়েদের জন্য নয়। বিয়ে হচ্ছে না কেন, কবে হবে? এসব প্রশ্ন একটা সময় পুরুষদেরও শুনতে হয়। তাই এখন পুরুষরাও আমাকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন।’

শেয়ার