সংশোধন হচ্ছে পুরনো পুলিশ আইন

police
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পুলিশের প্রস্তাবের পর ১৮৬১ সালের পুরনো আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনকল্যাণ ও পুলিশ, উভয়ের স্বার্থ বিবেচনা করেই ‘বাংলাদেশ পুলিশ আইন-২০১৩’ খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এর আগে পুরোনো আইন সংশোধনে পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা বিভাগ চেয়ে একটি খসড়া প্রস্তাবনা দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। পুলিশের সেই প্রস্তাবনা এবং বিভিন্ন দেশের পুলিশ আইন সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছে খসড়া আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটি। আঠারো শতকের ব্রিটিশ আইনটি সংশোধন করে যুগোপযোগী আইন তৈরী করতেই এ উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়।

আইন সংশোধনে কয়েক মাস আগে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হুমায়ূন কবিরকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। ‘বাংলাদেশ পুলিশ আইন-২০১৩’ -এর খসড়া প্রণয়নে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর বিকেলে যুগ্মসচিব মো. হুমায়ূন করিব বাংলানিউজকে বলেন, খসড়াটি করতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রস্তাবনা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আইন সংগ্রহ করা হয়েছে পুরোনো আইন সংশোধন করতে।

পুলিশের দেওয়া খসড়া প্রস্তবনা স্থান পাচ্ছে কি-না জানতে চাইলে কমিটির প্রধান বলেন, সব প্রস্তাবই নেওয়া হবে, তা নয়। বেশ কিছু ভাল প্রস্তাবও রয়েছে সেগুলো নেওয়া হবে। জনকল্যাণ বিবেচনা করেই আইনের খসড়াটি তৈরি হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও ভারতে এখনও ব্রিটিশ আইনটিই চলছে বলে উল্লেখ করেন হুমায়ূন কবির।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া খসড়া প্রস্তাবনায় পুলিশের জন্য আলাদা বিভাগ চাওয়া হয়। আর পুলিশ প্রধানের দায়িত্বেই নিয়োগ ও বদলিসহ অন্যান্য বেশ কিছু ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে।

তবে এ নিয়েও পুলিশের মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য। নন-ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তারা আলাদা বিভাগ চান না। তদের বক্তব্য আলাদা বিভাগ হলে জবাবদিহিতা কমে যাবে। নন ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা বৈষম্যের শিকার হবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নন-ক্যাডার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আলাদা বিভাগ করা হলে পুলিশের বিদ্যমান বৈষম্য আরও প্রকট হবে। কোনো কারণে ন্যয় বিচার না পাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হলে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু আলাদা বিভাগ হলে তা থাকবে না।

তদন্তের কাজে ন্যয় বিচারও থাকবে না। চলমান আইনে তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশ সুপার পর্যন্ত প্রত্যেকের কমবেশি জবাবদিহিতা রয়েছে। যদিও খুব বেশি প্রয়োগ হয়না।

চলমান আইনে উর্ধ্বতন ক্যাডার কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকায় তদন্তের মান বেশিরভাগই ভাল হয়। আলাদা বিভাগ চেয়ে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তাতে কোন ঘটনার তদন্তের দায় পড়বে শুধুই তদন্ত কর্মকর্তার ওপর। এতে তদন্তের মান ভাল হবে না, জনমনে প্রশ্ন উঠবে। শুধু তাই নয়, তদন্ত কর্মকর্তার ঘাড়েই জবাবদিহিতার বিষয়টি এককভাবে থাকায় নন-ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে বৈষম্য বাড়বে নন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যাডার কর্মকর্তাদের। কারণ নন-ক্যাডার কর্মকর্তারই প্রায় সব মামলারই তদন্ত করে থাকেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, আইন সংশোধন করে উর্ধ্বতন ক্যাডার কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে নতুন আইনে।

শেয়ার