শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাগিদ

Rana
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকদের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়, কাজ করতে আসা শ্রমিকদের যেন নিরাপত্তার অভাবে লাশ হয়ে ফিরে যেতে না হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনা না ঘটে।

বুধবার দুপুর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল একথা জানান।

রানা প্লাজা ধসের একবছর পূরণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গেল বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১ হাজার ১৩৫ জন নিহত হয়। ভবন ধসের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনা।

মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, রানা প্লাজা ধসের মতো কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। শ্রমিককল্যাণ ও তাদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা দেশ, শিল্পের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালাবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা এই রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপ্রপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা একবার ভেবে দেখেছেন কি এতে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? রপ্তানি আয় যদি কমে যায়, তাহলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মালিকরা তার কারখানা বন্ধ করে দেবে। লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে ব্যয় করা হয়। ত্রাণ তহবিলে কারা কত অর্থ দেয় তা মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। যারা এ ত্রাণ তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তাদের উচিত মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা।

শাকিল বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় প্রায় ৫০০ একরের বেশি জায়গায় গার্মেন্টপল্লী গড়ে তোলা হবে। সেখানে ভবন নিরাপত্তা ও অগ্নি নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়গুলোকে অধিক গুরত্ব সহকারে দেখা হবে।

রানা প্লাজার ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ১১৭টি। হাসপাতালে মারা যান ১৮ জন। ৮৮৪টি মরদেহ সনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বাকি ২৯১টি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ভবন ধসের পর রানা প্লাজা ও পোশাক কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারকে করা সহযোগীতার কথা তুলে ধরে শাকিল জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে সবমিলিয়ে দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য ২২ কোটি ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থার উদ্ধার কাজ পরিচালনায় ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রধামন্ত্রীর উদ্যোগে থাইল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় আহতদের মধ্যে যারা পা হারিয়েছিলেন তাদের কৃত্রিম পা লাগানো হয়েছে বলেও জানান শাকিল।

তিনি বলেন, যেসব সহায়তা দেয়া হয়েছে তা রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ববোধ থেকে করেছেন।

শেয়ার