শ্যামনগরে চরমে লোডশেডিং॥ ভেঙে পড়েছে বরফ উৎপাদন ব্যবস্থা

borof
সরদার সিদ্দিক, (শ্যামনগর), সাতক্ষীরা॥ লোডসেডিং এর কারণে উপজেলার সব কয়টি বরফ কলে উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এরফলে অধিক মুল্যে বরফ কিনে আনতে হচ্ছে মাছের ডিপো মালিকদের। গত এক সপ্তাহে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রচন্ড তাপদাহে এক দিকে জনজীবন ওষ্টাগত হয়ে উঠছে তেমনি দফায় দফায় লোডশেংি আর ভোল্টেজ আপ-ডাউনের কারণে মুল্যমান ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ছে। উপজেলা বরফকল মালিক সমিতির সভাপতি শাহিনুর রহমান (শাহীন) জানান উপজেলা নুরনগর ১টি, নওয়াবেঁকীতে ২টি, মুন্সিগঞ্জে ১টি, বংশীপুর ৪টি, ইসমাইলপুর গোড়াউনমোড় ১টিসহ মোট ৯টি বরফকল চলমান থাকলেও তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা একেবারেই বেহালদশার মুখে পড়েছে। বরফ তৈরির প্রধান উপাদান বিদ্যুৎ। মানসম্পন্ন এক ক্যান বরফ তৈরি হতে সময় লাগে ১৮-২০ ঘন্টা কিন্তু সঠিক মাত্রায় বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে চরমভাবে ক্ষতিরমুখে পড়তে হয় বরফকল মালিকদের। বর্তমানে ২৫০-২৮০ ভোল্ট মাত্রায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এরফলে এক ক্যান বরফ জমতে সময় লাগছে প্রায় ৬০-৭০ ঘন্টা, তাও আবার অসম্পন্ন জমা। একদিকে কম ভোল্টেজ অপরদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জমা বরফটাও গলে যাচ্ছে। ভোল্টেজের মাত্রা যদি ৪০০ থাকে. তাহলেও সঠিক সময়ের মধ্যে মানসম্পন্ন বরফ তৈরি করা সম্ভব। বংশীপুর আলামিন আইচ কমপ্লেক্সের স্বত্তাধিকারী সাব্বির আহমেদ জানান লাখ লাখ টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে এসব বরফ কল চালাতে হচ্ছে। ভোল্টেজ কম থাকলেও বিদ্যুৎ বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে কোনভাবেই জেনারেটর চালিয়ে এ ধরণের বড় বড় বরফকল চালানো সম্ভব হবে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। শ্যামনগরে দীর্ঘদিন ধরে ৩৩ কেভির একটি সাব-ষ্টেশন স্থাপনের কার্যক্রম চলছে, যা শেষের পথে হলেও লাইন টানার জন্য সিএন্ডবি’র গাছ কাটা নিয়ে রয়ে গেছে নানান জঠিলতা। প্রশাসনের প থেকে পল্লী বিদ্যুৎ এর নামে মামলাও করা হয়েছে যা আজও ঝুলে আছে। ইতিমধ্যে চাউর হয়েছে ৫-৭ দিনের মধ্যে ৩৩ কেভি লাইন দেয়া হবে কিন্তু তার কোন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপরে সুস্পষ্ট কোন জবাবও পাওয়া যাচ্ছে না।

শেয়ার