রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তি আজ ॥ যশোরের নিহত ১১ জনের পরিবার আজও বাকরুদ্ধ॥ সন্ধান মেলেনি সাবিনার

sabina
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আজ রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তি। রানাপ্লাজা কেড়ে নিয়েছে অনেকের সংসার, স্বপ্ন,ভবিষৎ। অনেককে ফিরিয়ে দিয়েছে পচা,গলা, ক্ষত-বিক্ষত লাশ। কিন্তু কোন কিছুই ফিরে পায়নি রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডিতে নিঁখোজ যশোরের চৌগাছা উপজেলার গুয়াতলি গ্রামের সাবিনা খাতুনের পরিবার। তাকে জীবিত কিংবা তার লাশের সন্ধান পায়নি পরিবারের সদস্যরা।
যশোরের ১১টি পরিবার তাদের স্বজনকে হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে অন্তত লাশ ফিরে পেয়েছে। সাবিনার পরিবার পায়নি কিছুই।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানাপ্লাজা ধসের খবর পেয়ে ঢাকায় ছুটে যান সাবিনার ভাই আব্দুল করিম। অনেক খোঁজাখুজির পরও তার বোনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ সরকারের পক্ষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পিতামাতার রক্ত দেবার কথা বলা হয়। নিখোঁজ সাবিনার পিতা ময়নুদ্দীন ঢাকায় গিয়ে রক্ত দেন। তরপরও আজো সাবিনার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সাবিনার পিতা ময়নুদ্দীন এখনো বিশ্বাস করেন তার মেয়ে ফিরে আসবে। ভাই আব্দুর রহিমও বোনকে ফিরে পেতে ব্যাকুল। স্বজনের সন্ধান না পেয়ে শোকে কাতর সাবিনার পরিবার। সাবিনার পিতা ময়নুদ্দিন জানান, ঢাকা শহরের হাসাপাতাল, ক্লিনিক তন্নতন্ন করে খুজেছি। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর জন্য আর কাঁদবো না। আল্লাহ হয়তো তার এভাবে মৃত্যু লিখেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা স্বজন হারিয়ে কেঁদে ফিরছেন আজও।
যশোরের আরও ১১টি পরিবার স্বজনের লাশ কবর দিয়ে শোকে পাথর হয়েছেন। কিন্তু স্বজনের নানা স্মৃতি তাদেরকে তাড়া করে ফিরছে। দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য ঢাকায় কাজ করতে গিয়েছিলেন সাঈদ, ফেরদৌসী, মিলন, শারমীন, মুক্তা, সালমা, ইসরাইল, রহিমা, রতœা, মতিজা বিবি, তাসলিমা। দরিদ্রতার হাত থেকে পরিবারকে মুক্ত না পারলেও সংসার চালতো তাদের উপার্জনে। কিন্তু পরিবারের হাল ধরা মানুষগুলোর রানাপ্লাজার ট্র্যাজেডিতে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আর কোন দিন হয়তো ফিরবেন না। তাই চোখের পানিতে স্মরণ করছেন স্বজনরা। প্রিয় মানুষগুলোকে হারিয়ে শোকাতুর পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বেশিরভাগই উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহয়তা ও কিছু বেসরকারি সংস্থার এগিয়ে এসেছে তাদের পাশে।
শার্শা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের চাচাতো ভাইবোনের দুটি লাশের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন হাসান উদ্দিন মিলন ও ফেরদৌসীর পরিবার। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে মিলনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ নূর জাহান হাসনা। তিনি বলেন, ওর (মিলন) বয়স যখন ৭ বছর তখন ওর আব্বা মারা গিয়েছে। আমি লোকের বাড়ি কাজ করে মানুষ করছি। এখন আমি কারে নিয়ে বাঁচবো। আমার যে আর কেউ নেই।’ ফেরদৌসীর মা খোদেজা খাতুন বলেন, শিউলী, ফেরদৌসী, মিলন চাচাতো ভাইবোন। শিউলী বেঁচে আসলেও ওদের দুজনের লাশ পেয়েছি।
শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের নিহত এসএমএ সাঈদের পিতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলে বড় চাকরি করতো, সংসারের বড় ছেলে হওয়ায় দায়িত্বও ছিল অনেক। কিন্তু সেই ছেলেকে আর কোনদিন পাব না। আরও বেশি কষ্ট লাগে ওর (সাঈদের) বউ ও ২ ছেলের মুখের দিকে তাকালে। এক ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে, অপরজন ছোট। ওরা শিশুকালে এতিম হলো।

শেয়ার