যশোরে ‘চাকু’ আতংক

chaku
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
যশোরে এখন ভয়ঙ্কর অস্ত্র হিসেবে অধিক পরিচিতি পেয়েছে ‘চাকু”। একের পর এক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে ছুরিকাহতের আতংক বিরাজ করছে। গত দেড় মাসে জেলায় ছুরিকাঘাতে একজন নিহতসহ অন্তত ২২জন আহত হয়েছেন। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ও ছিনতাই করতে গিয়ে উঠতি বয়সী কিশোররা বিভিন্ন ধরণের চাকু ব্যবহার করছে। পান থেকে চুন খসলেই ঘটছে ছুরিকাঘাতের ঘটনা। শুক্রবার রাতে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে বৈশাখী অনুষ্ঠান দেখা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইসলাম (১৮) নামের কিশোর খুন হয়েছেন। এসময় আরও ১ জন আহত হয়েছেন। শক্তি প্রদর্শন ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাকু সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের পাশাপাশি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এ অস্ত্রের ব্যবহার করছে। এ নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, মার্চ ও চলতি এপ্রিল মাসে যশোরে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত ও আরও অন্তত ২২জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সর্বশেষ ২০ এপ্রিল চৌগাছা ডাকবাংলা পাড়ায় শাহিনুর রহমান নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল রাতে শহরের সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে বৈশাখী অনুষ্ঠানে ছুরিকাঘাতে এক কিশোর খুন হন। এসময় আরও ১জন আহত হন। তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে এ ছুরিকাহতের ঘটনা ঘটে। একই দিন শহরের তালতলা এলাকায় স্কুল শিক্ষক শাজাহান, ১৫ এপ্রিল শহরের পুরাতন কসবা এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইমরান হোসেন (২২), ৯ এপ্রিল ঝিকরগাছায় আমিনুর (২২) ও মিঠুন (২৫), ৬ এপ্রিল শহরের বাবলাতলা এলাকায় আলমসাধূ চালক বিপ্লব, তবিবর ও আল-আমিন, ৫ এপ্রিল শহরের মিশন পাড়ায় বেসরকারি সংস্থা আরআরএফ উপপরিচালক আবুল কালাম, ১ এপ্রিল চৌগাছা বাজারে বাস হেলপার বাদল ও ২৯ মার্চ এমএম আলী রোডে বান্না এন্টার প্রাইজের মালিকের ছেলে বান্না (২২) ও কর্মচারী পান্না ছুরিকাহত হন। ১৬ মার্চ সরকারি এমএম কলেজের সামনে চায়ের দোকানদার মনু মিয়া, ১৫ মার্চ যশোর সরকারি এমএম কলেজ ক্যাম্পাসে সহপাঠীর হাতে রানা আহমেদ, ১৩ মার্চ যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে সহপাঠীর ছুরিকাঘাতে জাহাঙ্গীর আলম মিথুন, শিমুল রায় ও ইমরান হোসেন, ১২ মার্চ খয়েরতলা এলাকায় স্কুল ছাত্র মাসুদুল হাসান, ১১ মার্চ শহরের কাঠেরপুল এলাকায় স্কুল ছাত্র শাকিল, ৯ মার্চ সদরের দাইতলা নামক স্থানে কলেজ ছাত্র সাগর হোসেন ও ৫ মার্চ শহরের বারন্দীপাড়ায় রিকসা চালক নাজমুল হক, নামের এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হন।
প্রতিদিন যশোরের কোন কোন এলাকায় ছুরিকাহত কিংবা ছুরির মুখে জিম্মি করে শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। সহজেই কিশোরদের হাতে নাগালে মিলছে বিভিন্ন ধরণের ছুরি। শহরের জেস টাওয়ার, সিটি প্লাজা, বড় বাজারসহ বিভিন্ন মনোহরীর দোকানে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে বার্মিজ চাকু। বার্মা থেকে আমদানিকৃত বলে এটি বার্মিচ চাকু হিসেবে পরিচিত। সহজেই এটি বহন করতে পারে ব্যবহারকারীরা। তাই বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর বয়সীরা ক্রয় করছে। এই চাকু ২৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। উঠতি বয়সী শিশু ও কিশোররা শক্তি প্রদর্শনের জন্য চাকু সংগ্রহ করছে। ছিনতাইকারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চাকু ব্যবহারে উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
এ প্রসঙ্গে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, খুনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে চাকুসহ আটকের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তল্লাশি করা হচ্ছে। চাকুসহ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, চাকু সংগ্রহের উৎস বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার