বাংলাদেশের ভূখণ্ড দাবির প্রতিবাদে ভারতীয় সাইট হ্যাকড

www.infofield
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড অবৈধভাবে দাবি করার প্রতিবাদে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা লাল কৃষ্ণ আদবাণীর অফিসিয়াল সাইট, বিজিপির অফিসিয়াল ও বিভিন্ন রাজ্যের ১১টি সাইট হ্যাক করেছে বাংলাদশভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ ‘বাংলাদেশ সাইবার ৭১’।

সোমবার মধ্যরাত থেকে গ্রুপটি এ-পর্যন্ত তিন শতাধিক ভারতীয় সাইট হ্যাক করার দাবি করেছে।

এ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ সাইবার ৭১’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম আল ফাহিম এবং বাংলাদেশ সাইবার ৭১-এর অ্যাডমিন রেডফক্স বুধবার বাংলানিউজকে জানান, বিজেপি তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রেডফক্স জানান, তারা বিজিপির ১১টি সাইট হ্যাক করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি হ্যাক করা সাইটের তালিকাও দিয়েছেন। সাইটগুলি হচ্ছে: বিজিপি রাজ্যসভা, বিজিপি লোকসভা, বিজিপি পাঞ্জাব, বিজিপি দিল্লি, বিজিপি মধ্যপ্রদেশ, বিজিপি অনলাইন ফোরাম, উপ-প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইট, বিজিপি ফ্যান ওয়েবসাইট, বিজিপি কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় ওয়েবসাইট, বিজিপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণীর ব্লগ ও ফোরাম এবং বিজিপি বিহার ওয়েবসাইট।

এদিকে, হ্যাকড ওয়েবসাইটগুলো খুললে দেখা যায়, তাতে বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন ও তার ছেলে অভিষেক এবং পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাই হাসিমুখে মধ্যমা উঁচু করে আছেন।

তার নিচে লেখা- যবষষড় ইঔচ, ংড় ঁ ধমধরহ ফবসধহফ ইধহমষধফবংযর ষধহফ? (হ্যালো বিজেপি, তোমরা তাহলে ফের বাংলাদেশের ভূমি দাবি করছো?)।

এছাড়া আরো লেখা আছে, যার বাংলা পরিভাষা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশি ভূখণ্ড দাবির প্রতিবাদে এটি জোরালো প্রতিবাদ। এজন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। এটি অনুরোধ নয়, সাবধানবাণী। কিন্তু আবার দেখা হবে। বাংলাদেশি হ্যাকারদের পক্ষ থেকে তোমাদের একটি নিরাপত্তা চুমু।’

‘অল বাংলাদেশি ফ্রিডম ফাইটার সাইবার-৭১ ফ্যামিলি’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ এর দায় স্বীকার করে।

গত ১৯ এপ্রিল ভারতের সাম্প্রদায়িক দল বলে পরিচিত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম শীর্ষনেতা সুব্রাহ্মনিয়াম স্বামী বাংলাদেশের কাছে এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড দাবি করেন।

তিনি বলেন, খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত সমান্তরাল রেখা টেনে এ জমি ভারতের হাতে ছেড়ে দিক বাংলাদেশ। কারণ, দেশভাগের পর অধুনা বাংলাদেশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ মুসলমান ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায় এসব মুসলমানের সংস্থাপনের জন্য বাংলাদেশকে এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড ছাড়তে হবে ঢাকাকে।

গত শনিবার আসামের শিলচর থেকে প্রকাশিত বাংলা ‘দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ’ এ খবর দেয়।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সুব্রাহ্মনিয়াম স্বামীর যুক্তি হলো, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ বিশ্বের যেসব দেশে মুসলমানদের সংখ্যাধিক্য, সেখানে হিন্দুরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এমনকি প্রকাশ্যে ধর্ম পালনেরও অধিকার নেই তাদের। একমাত্র ভারতেই যেহেতু হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই এই দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। ফলে, সীমান্ত পার (বাংলাদেশ থেকে ভারতে কথিত অনুপ্রবেশ) সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সাময়িক প্রসঙ্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের হাউজ অব কমন্সে ১৯৪৭ এর জুনে ভারতের দেশভাগ নিয়ে বিতর্ক এবং ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্টের মৌলিক প্রসঙ্গ টেনে যে তত্ত্বের যুক্তিজাল এদিন সামনে রাখলেন স্বামী, এককথায় তার সারমর্ম হলো, মানুষের বোঝা চাপিয়ে দিলে দিতে হবে জমিও।

সুব্রাহ্মনিয়াম স্বামীর বক্তব্য হলো, ধর্মের ভিত্তিতে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছিল ভারত ভূখণ্ড। তাই, পাকিস্তান বা অধুনা বাংলাদেশ থেকে এ দেশে (ভারতে) যেসব মুসলমান অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায় এদের সংস্থাপনের জন্য জমি ছাড়তে হবে ঢাকাকে।

স্বামীর মতে, অধুনা বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সীমান্ত টপকে ঢুকেছে ভারতে। তাই, এদের ফিরিয়ে না নিলে বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে হবে সে দেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড।

তার প্রস্তাব, খুলনা থেকে সিলেট অবধি সমান্তরাল রেখা টেনে এই জমি ভারতের হাতে ফেরত দিক বাংলাদেশ।
তবে স্বামী জানিয়েছেন, এ নিয়ে তিনি এখনো মোদি বা বিজেপির সঙ্গে কথা বলেননি ঠিকই, কিন্তু নতুন এই তত্ত্বের কথা যথাসময়ে দেশের সংসদে উত্থাপন করবেন।

সংসদে এ নিয়ে বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন সে কথা তিনি দলীয় নেতৃত্বকে বুঝিয়ে বলবেন। সাময়িক প্রসঙ্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার একদিনের সফরে গৌহাটিতে পা রেখেছিলেন স্বামী। উদ্দেশ্য, দলের নির্বাচনী বাতাস বইয়ে দেওয়া। কোনো প্রচার সভায় ভাষণ না দিলেও স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে এক আলাপতারিতায় অংশ নেন তিনি। মুখোমুখি হন সাংবাদিকদেরও।

শেয়ার