নাশকতা ঠেকাতে হার্ড লাইনে পুলিশ ॥ জামায়াত শিবিরের ২০ ক্যাডার আটক

jamat atok
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জামায়াত শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে হার্ড লাইনে নেমেছে পুলিশ। তারা ফের যাতে সংগঠিত হয়ে জ্বালাও পোড়াও করে পরিবেশ অস্থির করতে না পারে সে জন্য শুরু করা হয়েছে আটক অভিযান। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল যশোর সদর ও মনিরামপুর থেকে জামায়াত-শিবিরের ২০ ক্যাডারসহ মোট ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইকারী ও বোমাবাজ রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
আটকৃতরা হলো, মনিরামপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের তুহিন, গোয়ালপাড়া গ্রামের মণিরুল ইসলাম, আব্বাস গাজী, আব্দুল কাদের, জয়পুর গ্রামের মতিয়ার রহমান, হাফিজুর রহমান, গোলাম রসুল, হাফিজুর রহমান, মঞ্জুরুল আলম ও ইউনুস আলী, চালকিডাঙ্গা গ্রামের আজিজুর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন ও রুস্তম আলী, আন্দুলিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ, হাজরাইল গ্রামের আজিজুর রহমান ও জালাল উদ্দিন, বেনাপোল বন্দর থানার বড় আচঁড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন, শহরতলীর বালিয়া ডাঙ্গা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সোহাগ, নওদা গ্রামের আলী হাসান আরিফ, কাশিমপুর গ্রামের মিলন, করিচিয়া গ্রামের মহিদুল ইসলাম, বাহাদুরপুর গ্রামের রিপন, শহরের রেলগেট চোরমারা দীঘির পাড়ের মেহেদী হাসান সাগর, চাঁচড়া এলাকার বাপ্পা, খড়কী দক্ষিন পাড়ার বাচ্চু, শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মিলন, সার্কিট হাউজ পাড়ার তৈয়েবুর রহমান, শংকরপুর হারানবস্তির ভাজা ওয়ালা রহিমের স্ত্রী মনিরা বেগম, ওই এলাকার বাবু, মন্টু, ফোরকান আলী, ইনছান আলী, মানিক, রনি, ফয়সাল, নয়ন, আলমগীর হোসেন, ঘোপ বেলতলার মোস্তফা, গুল্লু, সেন্ট্রাল রোডের নাজমুল ইসলাম ও মাসুদ রানা, উপশহর বি-ব্লকের সেলিম ও নড়াইল তুলারামপুরের টিটো।
কোতোয়ালি থানার ওসি জানান, সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে। নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনকে সু-সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। একই সাথে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা তৈরিসহ সশস্ত্র অবস্থায় থেকে সাধারণ মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কর্মকান্ড আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরে আসায় সন্ত্রাস দমনের জন্য সারা দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে মনিরামপুর এলাকা থেকে কোতোয়ালি ও মনিরামপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযানে ১৭ জন জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার আটক করে। এরপর কোতোয়ালি থানা পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে হত্যা, বোমা, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজসহ আরো ২৬ জনকে আটক করে। তার মধ্যে জামায়াতের ক্যাডার ৩ জন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দু’টি তাজা বোমাসহ বিস্ফোরিত কিছু বোমার আলামত জব্দ করে পুলিশ।
এ ছাড়া পুলিশ রিপন নামে এক সন্ত্রাসীকে জেল গেট থেকে মঙ্গলবার বিকেলে আটক করে। সে একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে।
অপর দিকে মনিরা বেগম নামে শংকরপুর হারান বস্তি এলাকার ভাজা ওয়ালা রহিমের স্ত্রীকে দু’টি তাজা বোমাসহ আটক করে পুলিশ। রহিম একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধেএকাধিক অভিযোগ রয়েছে। সে শহরের টিবি কিনিক এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী শাওন ওরফে গুঙ্গ শাওনের সহযোগী। ইতিপূর্বে তাকে পুলিশ একাধিকবার আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে ছাড়া পেয়ে যায় । তারই নেতৃত্বে টিবি কিনিক এলাকায় ছিনতাই রাহাজানি হয়ে থাকে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
১৭ জামায়াত শিবিরের ক্যাডার আটকের ব্যাপারে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খান জানান, আটককৃতরা সবাই জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী।

শেয়ার