কালীগঞ্জে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় জিরা হজমের পায়তারা করছে পুলিশ ॥ ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না ওসি আনোয়ার ! শাস্তির দাবি সচেতনমহলের

jira
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ ॥ কালীগঞ্জ থানা পুলিশ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় জিরা হজমের পায়তারা করছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার কওসারের ইটভাটা এলাকায় একটি পরিবহনে তল্লাসি চালিয়ে ৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করে থানার আনসার ব্যারাকে লুকিয়ে রেখেছে। অথচ থানার অফিসার-ইন-চার্জ থেকে শুরু করে কোন কর্মকর্তা এই জিরা উদ্ধারের বিষয়ে মুখছেন না। এক দারোগা আরেক দারোগাকে উদ্ধারকারী কর্মকর্তা বলছেন কিন্তু কোন দারোগা তার সত্যতা স্বীকার করছেন না। পুলিশের এই লুকোচুরি প্রমাণ করে হয়তো চোরাকারবারির সাথে দরকষাকাষি হচ্ছে অথবা পুরোটাই হজমের পথে হাটছে পুলিশ। এনিয়ে কালীগঞ্জে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, সোমবার দুপুরে যশোর থেকে ঝিনাইদহ গামী একটি পরিবহনে তল্লাসী চালিয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ৫ বস্তাভর্তি ২৫০ কেজি জিরা উদ্ধার করে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। জিরার চালানটি উদ্ধার করে থানার আনসার ব্যারাকে আড়াই বস্তা ও অন্যত্র রাখা হয়েছে আড়াই বস্তা। এই জিরার মালিক ঝিনাইদহ ৩নং পানির ট্যাংক পাড়ার নার্গিস বেগম ও ডলি আক্তার। সোমবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা জিরা ছাড়ানোর জন্য মোটা অংকের টাকা নিয়ে থানার সামনে ঘুরা ফেরা করেছে। কিন্তু চুক্তিতে বনিবনা না হওয়ায় পুলিশ জিরা ছাড়েনি। এছাড়া জিরা উদ্ধারের ঘটনায় থানা পুলিশ কোন সিজার লিস্টও করেনি। এমনকি থানায় কোন জিডিও হয়নি বলে জানিয়েছেন ডিউটি অফিসার জসিম উদ্দীন। জিরা উদ্ধারের ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার এসআই ইমরান হোসেন জানান, জিরা উদ্ধার করেছনে এএসআই নাসির উদ্দীন। আমি কিছু জানিনা। কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, জিরা উদ্ধারের বিষয়টি আমি রাতে শুনেছি। তোমাকে পরে জানাবো। আ-হা ওসি’র এই বক্তব্যে পরাণ জুড়িয়ে যায় ! সচেতনমহল বর্তমান ওসি’র কথা-বার্তায় মনে হয় উনি ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না। সত্যি পুলিশ বলে কথা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দুর্নীতিবাজ এসব পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কালীগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

শেয়ার