আজ পাটকেলঘাটা পারকুমিরা গণহত্যা দিবস ॥ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি শহীদ পরিবারের

gonohotta
মুজিবুর রহমান, পাটকেলঘাটা॥ আজ পাটকেলঘাটা পারকুমিরার গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাটকেলঘাটার পারকুমিরায় ৭৯ বাঙালী পাকসেনাদের ব্রাশ ফায়ারে শহীদ হন। এরমধ্যে ৪৯ জনের লাশ পারকুমিরার বধ্যভূমিতে মাটি চাপা দেয় পাকসেনারা। কাশীপুর গ্রামের শেখ হয়দার আলীর সারা শরীর পাটে মুড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে। এ সময় সেই মর্মান্তিক মুত্যু দেখে বর্বর পাকসেনারা উল্লাস করে। দেশ স্বাধীনের পর এই দিনটিকে পারকুমিরা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এবারও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর সেদিনের স্মৃতিচারণে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় শহীদদের গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পন ও আলোচনা সভা।
শহীদ পরিবারের সন্তান তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম সেদিনের সেই বর্বরস্থ্য হত্যাযজ্ঞের লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সেদিন ছিল শুক্রবার। মসজিদে জুম্মার আযান হচ্ছিল। এ সময় পাটকেলঘাটা থেকে পাকিস্তানী হায়নারা বীরদর্পে পারকুমিরায় গিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে আলোচনার কথা বলে একত্রিত করে ব্রাশ ফায়ারে ৭৯ জনকে হত্যা করে। এদের মধ্যে যশোর নওয়াপাড়া, চুকনগর, ডুমুরিয়া, পাইকগাছাসহ বিভিন্ন এলাকার আশ্রয়ের সন্ধানে আশা স্মরনাথীরাও তাদের নির্বিচার গুলিতে প্রাণ হারান। অনুসন্ধানে বেশকিছু এলাকার শহীদদের পরিচয় পাওয়া যায়। সেদিন যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পাটকেলঘাটা থানার পুটিয়াখালী গ্রামের শহীদ শেখ আব্দুর রহমান, শহীদ শেখ আলাউদ্দীন, শহীদ শেখ সামছুর রহমান, শহীদ শেখ বদরুদ্দীন, সালমত আলী, শেখ ফয়জুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, সাজ্জাত আলী, বেলায়েত আলী, শামছুর রহমান, আজিজুর রহমান, আব্দুস সামাদ, কাশীপুর গ্রামের শেখ হায়দার আলী, তৈলকূপী গ্রামের আব্দুর রউফ, পারকুমিরা গ্রামের বিজয় পাল, কলাগাছির কার্ত্তিক মন্ডল, পারকুমিরার ষষ্ঠি কুন্ডু ও বিজয় পাল। যাদের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের অনেককে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়। বাকী যাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি তাদের পারকুমিরার বধ্যভূমিতে গণকবর দেয়া হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই বীর শহীদদের গণকবর রক্ষার্থে সরকারীভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যে ওই স্থানে মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। শহীদদের স্মৃতি চারণে প্রতি বছরের ন্যায় আজও বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় শহীদদের গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পন ও আলোচনা সভা। শহীদ পরিবারের সন্তান কাশীপুর গ্রামের শেখ টিপু সুলতান আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু শহীদ স্মৃতি স্তম্ভটি আজও নির্মিত হয়নি। তিনি আরো বলেন, শহীদ পরিবারের লোকজন কেমন আছে এ খবরও কেউ রাখে না। তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় পারকুমিরায় একটি স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপন এবং গণকবর সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান। প্রশঙ্গত: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী থাকাকালে কাশীপুর সফরকালে পারকুমিরা স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

শেয়ার