আগে জনগণের স্বার্থ দেখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

PM
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইডিইবি) ২০ তম জাতীয় সম্মেলন ও ৩৮তম কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণ কিসে লাভবান হয়, সেটা দেখতে হবে। অল্প খরচে জনগণকে কিভাবে সেবা দেয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

আন্তরিকতা নিয়ে কাজ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “পরিকল্পনা সুষ্ঠু হতে হবে, যাতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারি।

“আমরা চাই এগিয়ে যেতে। অনেকে চায়, বাংলাদেশ দারিদ্রের কষাঘাতে থাকুক। ভিক্ষা খাইয়ে খাইয়ে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।”

কারিগরী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা চাই সকলে যেন ক্লাস সিক্স থেকে ভোকেশনাল ট্রেনিং পায়। সেজন্য আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“প্রশিক্ষণটা এমন হতে হবে, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নিতে পারে।”

সব শ্রেণি-পেশার মানুষই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অন্যের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে সংগঠনের সম্মানী সদস্যপদের সনদ তুলে দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আজ আমাকে আপনাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানী সদস্যপদ অর্পণ করে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য হতে পেরে আমি আনন্দিত।”

‘জীবন-জীবিকা সমৃদ্ধির জন্য দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের সম্মেলন করে আইডিইবি।

একে যথার্থ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি এই প্রতিপাদ্যটি যথার্থ এবং সময়োপযোগী হয়েছে। শুধু শিক্ষার জন্য শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতাভিত্তিক সুশিক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।”

‘সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চাই’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই কথা উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, “সোনার মানুষ গড়তে হলে আমাদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ মানুষ গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় দায়বদ্ধতা ও চেতনা থেকে প্রতিটি পেশাজীবী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনকে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির কাজ করতে হবে।

“বর্তমান বিশ্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাই হতে পারে আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।”

আইডিইবির মূল ভবনে ইলেকট্রো মেডিক্যাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “একই সাথে আপনারা আইডিইবি ভবনে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড আইটি ল্যাব এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সহায়তা চেয়েছেন।

“আপনারা যখনই সহায়তা চেয়েছেন আমি বিমুখ করিনি। আপনারা সহযোগিতা পাবেন।”

আইডিইবির উদ্যোগে একটি এনার্জি পার্ক এবং উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনে প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সেজন্যও সরকারের তরফ থেকে সহায়তা করা হবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

আইডিইবির সদস্যদের বেতন বৈষম্য নিরসনসহ কয়েকটি পেশাগত সমস্যা সমাধান এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র-শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দুটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

তবে ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বিম্ময় প্রকাশ করে বলেন, “অনেক আগেই বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কোথায় ঠেকে আছে, সে বিষয়টি আমি দেখবো।”

ছাত্রদের বৃত্তি ও অর্থের পরিমাণ বাড়ানো এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ভাতা বাড়ানোরও আশ্বাস দেন তিনি।

বিশেষ সামাজিক অবদান রাখায় আইডিইবির পাঁচ সদস্যকে অনুষ্ঠানে সন্মাননা পদক দেয়া হয়।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- সাংসদ রহমত আলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, শফিউল্লাহ সরদার, প্রয়াত আব্দুল জব্বার খান ও প্রয়াত রমানন্দ মল্লিক।

আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান।

শেয়ার