স্কুলের জমি দখল নিয়ে হামলা পাল্টা হামলা বোমাবাজি ॥ গণপিটুনিতে আহত দু’ ভাড়াটে গুণ্ডা

Boma hamla2
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর শহরে স্কুলের জমি দখল নিয়ে হামলা পাল্টা হামলা এবং বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বোমার স্পি­ন্টারে দুই শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আহত হয় দু’ভাড়াটে গুণ্ডা। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যশোর-খুলনা মহাসড়ক দেড় ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। সোমবার সকাল ১০ টার দিকে শহরের শংকরপুর সন্নাসী দিঘির পাড় এলাকার পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। এদিকে স্কুলের জমি দখল এবং বোমা হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত আটক ও বিচারের দাবি জানিয়েছে জেলা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, সন্নাসীর দিঘির পাড় এলাকায় পাকিস্তানীদের রেখে যাওয়া ৭৬ শতক জমি সরকারি খাস খতিয়ানে চলে যায়। পরবর্তীতে জমিটি ১৯৭৭ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক খাস খতিয়ান থেকে বন্দোবস্ত দিয়ে সেখানে স্কুল নির্মানের অনুমতি দেন। ওই জমির মধ্যে মালিকানা সম্পত্তি আছে বলে এলাকার একটি কু-চক্রি মহল তা দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু কোন ক্রমেই তা সম্ভব না হওয়ায় এলাকার ফকির আহম্মেদ নামে ওই জমির মালিক দাবি করে আসাদুজ্জামান আসাদ নামে অপর এক ব্যক্তির কাছে পাওয়ার অব এটর্নি করে দেন। পাওয়ার অফ এটার্নি সম্পত্তি দখলে নিতে আসাদ বেশ কিছু দিন এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ খানেক আগে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি এমদাদুল হক শেখকে ম্যানেজ করেন। সপ্তাহ খানেক আগে আব্দুর রশিদ নামে স্কুল কমিটির এক সদস্যকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে রশিদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আসাদ তার লোকজন নিয়ে রোববার রাতে ওই এলাকায় মহড়া দেয়। এ ছাড়া তারা স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি এবং ওসি স্কুল কমিটির লোকজনদের বাড়িতে গিয়ে তাদের এলাকা ছাড়া করে। মঙ্গলবার থেকে ওই স্কুলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। সোমবার সকাল ৯ টার দিকে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে। সাড়ে ৯ টার দিকে আসাদ তার লোকজন নিয়ে স্কুলের পশ্চিম পাশ্বের দেয়ালে দু’টি এবং মাঠের মধ্যে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় রাকিব হাসান নামে এক শিক্ষার্থীসহ দু’জন আহত হয়। বোমা বিস্ফোরণের শব্দে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী এসে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর তোপের মুখে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার সময়ে জাহাঙ্গীর হোসেন ও জুলফিকার হায়দার পাভেল নামে দু’সন্ত্রাসী গনপিটুনিতে আহত হয়। এদের সকলকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী খান জানান, স্কুল দখলের ঘটনাটি বেশ কিছুদিন পূর্ব থেকে তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি কেতোয়ালি থানার ওসি এমদাদুল হক শেখকে অবহিত করা হয়। কিন্তু ওসি উল্টো স্কুল কমিটির লোকজন আটক করে থানায় নিয়ে তাদের সাথে মিমাংসা করে নেয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে।
ওই স্কুলের শিক্ষক সেলিম হোসেন জানান, বোমা হামলা চালানোর পর ওসিকে জানানো হলে তিনি পুলিশ পাঠাতে গড়িমশি করেন।
সদস্য রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা কয়েকদিন ধরে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। স্কুলের সম্পত্তি রক্ষায় যারা বাধাঁ প্রদান করছিল তাদের নামের তালিকা তৈরি করে আসাদ ওসিকে দিয়েছে।
বিষয়টি যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারকেও অবহিত করা হয়েছে বলে মেয়র মারুফুল ইসলাম জানান। তারা যেকোনো মূল্যে স্কুলের সম্পত্তি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। অথচ কোতোয়ালি থানার ওসি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সে কারণে সন্ত্রাসীরা স্কুলটিতে একের পর এক হামলা করার সাহস পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মেয়র।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেছেন, স্কুলের জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা সব পক্ষকে মানতে হবে। এর আগে কেউ জমি দখল করতে পারবে না, এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে জনতা অবরোধ তুলে নেয়।
উল্লেখ্য সারথী স্কুলটিতে শংকরপুর এলাকার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এছাড়া স্কুলমাঠে ঈদের জামাতও হয়। এ ব্যাপারে স্কুলের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। এদিকে ওই স্কুলে বোমা হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আটক ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জেলা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।

শেয়ার