কেশবপুর গৌরিঘোনা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ॥ গভীর রাতে লাইব্রেরিয়ানকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের একই কক্ষে অবস্থান॥ এলাকায় সমালোচনান ঝড়

oniom
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি॥ কেশবপুরে এক প্রধান শিক্ষক তার স্কুলের লাইব্রেরিয়ানকে নিয়ে গভীর রাতে একই কক্ষে অবস্থান করা নিয়ে এলাকায় চলছে মুখোরচক আলোচনা। অভিভাবকমহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৌরীঘোনা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার দে ও একই স্কুলের লাইব্রেরিয়ান রেক্সোনা খাতুনকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখে এলাকার মানুষের সন্দেহ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা স্কুল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানান। সভাপতি দেশের বাইরে থাকায় তার ছেলে সোহেল রানা লোকজন নিয়ে দ্রুত স্কুলে গিয়ে লাইব্রেরিয়ান রেক্সোনাকে উদ্ধার করে নিজেদের বাড়ি নিয়ে যান। এদিকে গভীর রাতে স্কুলের লাইব্রেরিয়ানকে প্রধান শিক্ষকের রুমে পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় কানাঘুষা শুরু হয়। ঘটনার কথা লোকমুখে চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই কয়েকজন অভিভাবক ঘটনাটি স্কুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদকে জানান। তিনি স্কুলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ার ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কয়েকজন অভিভাবক জানান, এলাকার প্রভাবশালি মহল মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তথ্যানুসন্ধানে স্কুল প্রাঙ্গনে পৌঁছালে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টেঁর পেয়ে লাইব্রেরিয়ান রেক্সোনা স্কুল থেকে পালিয়ে যান। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার দে ও সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সোহেল রানাকে এক সাথে বসে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে স্কুলের নৈশ প্রহরী ছুটিতে থাকায় নতুন বিল্ডিং তৈরির ইট বালি চৌকি দেয়ার জন্য তিনি নিজেই রাতে স্কুলে অবস্থান করছিলেন। আর লাইব্রেরিয়ান রেক্সোনা স্কুলে পাশের বাড়িতে একজন অভিভাবক মারা যাওয়ায় রাতে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি। স্কুলের পাশে অন্য একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিরোধীপক্ষরা রাতে অনৈতিক সম্পর্কের গুজব ছড়িয়ে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, রেক্সোনা তালাকপ্রাপ্ত। অভিভাবক না থাকায় রাতে বাড়ি ফিরতে পারেননি।
স্কুল সভাপতির ছেলে সোহেল রানা জানান, প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোন সত্যতা পাননি। তবে রেক্সোনাকে উদ্ধার করে রাতে নিজ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ স্কুলের একজন শিক্ষক জানান, ইতোপূর্বে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষিকার সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। তিনি সকল ঘটনার তদন্ত করে স্কুলের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি শুনেছি। কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার