অনাবৃষ্টি ও প্রচন্ড তাপদাহে পাইকগাছায় মৌসুমের শুরুতেই মারা যাচ্ছে বাগদা চিংড়ি॥ সর্বশান্ত চাষীরা

chingri
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি॥ খুলনার পাইকগাছায় মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক হারে মারা যাচ্ছে বাগদা চিংড়ি । ফলে একদিকে সর্বশান্ত হতে বসেছে চিংড়ি চাষীরা। অপরদিকে বার্ষিক উৎপাদন ল্যমাত্রা ও মারাত্মকভাবে ব্যহত হওয়ার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি ও প্রচন্ড তাপদাহে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে দ্বায়-দেনার ভারে পথে বসতে হতে পারে অনেক ুদ্র ও প্রান্তিক চাষীকে।
সূত্র মতে, ৮০’র দশকে কৃষি অধ্যুষিত এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে শুরু হয় লবণ পানির চিংড়ি চাষ। শুরুতেই অধিক লাভজনক হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে এ চাষ ব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপজেলায়। এক সময়ের কৃষি এই এলাকা রূপ নেয় চিংড়ি অধ্যুষিত এলাকায়। ১৯৯৫ সালের দিকে প্রথম রোগ বালাইয়ের প্রকোপ দেখা দেয়ায় প্রায় টানা এক দশক লাভের মুখে থাকা চিংড়ি চাষে ধস নামা শুরু হয়। রোগ বালাই ধীরে ধীরে ব্যাপক আকার ধারণ করায় বছরের পর বছর ধরে লোকসানের মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট চাষীদের। দায়-দেনার ভারে দীর্ঘ সময় জর্জরিত হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় সম্ভাবনাময় চিংড়ি চাষ। এদিকে দীর্ঘদিন পর গত বছর ভালো উৎপাদন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছাড়িয়ে যায় উৎপাদন ল্যমাত্রা। হেক্টর প্রতি প্রায় ৫’শ কেজি উৎপাদন হয়। যা শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিকভাবেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে চিংড়ি অধ্যুষিত এ উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪ সহস্রাধিক ঘের রয়েছে। গত বছর উৎপাদন ভাল হওয়ায় চলতি বছর সংশ্লিষ্ট চিংড়ি ঘেরগুলোতে মৎস্য অধিদপ্তর ৬ হাজার মেট্টিক টন উৎপাদন ল্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক হারে চিংড়ি মারা যাওয়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্খা করা হচ্ছে নির্ধারিত এ ল্যমাত্রা। চিংড়ি চাষী মোমিন সরদার জানান, চাষকৃত চিংড়ি বিক্রয় উপযোগী হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে। যার ফলে তাদেরকে দারুনভাবে লোকসানে পড়তে হতে পারে বলে মাঝারী পর্যায়ের এ চিংড়ি চাষী জানান। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ,এস,এম, রাসেল জানান, কিছু কিছু চাষী মাছ মারা যাচ্ছে এমন অভিযোগ করলেও মারা যাওয়া চিংড়িতে রোগবালাইয়ের কোন লক্ষ্মণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপ,ে মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টিপাত না থাকায় এবং প্রচন্ড তাপদাহের কারণে গভীরতা কম যে সব ঘেরগুলো সে সব ঘেরের মাছ মারা যাচ্ছে। এ েেত্র ঘেরের পানি বৃদ্ধিসহ ভাইরাসমুক্ত পোনা অবমুক্ত করার জন্য চাষীদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার