সাতক্ষীরায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর রাতেই লাশ পুতে ফেলার চেষ্টা

jowtuk
সাতক্ষীরা/কালিগঞ্জ প্রতিনিধি॥ যৌতুক না পেয়ে ইনসেপটা কোম্পানীর আহসানুল্যাহ নামে এক কর্মকর্তা তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার (২২) কে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। হত্যার পর মা-ছেলে মিলে গোপনে পুতে ফেলার চেষ্টা করে কিন্তু প্রতিবেশিরা দেখে ফেলায় তারা লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। রোববার সকালে পুলিশ নারায়নপুর গ্রামে খুনির বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শনিবার রাতে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ রহস্যজনক কারণে খুনি মা-ছেলেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এরআগে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল রুবিনা স্বামী-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় করেন। কিন্তু দুর্বল চার্জশিট দেয় পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তঅ। যেকারণে আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠে রবিনাকে হত্যা করার সাহস দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই ফয়সাল। স্থানীয়রা আসামি পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পুলিশের যোগসাজস থাকার অভিযোগ তুলেছেন।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) গোলাম রহমান জানান, পানিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে রুবিনা আক্তারের সাথে কয়েক বছর আগে বিয়ে উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে আহসানুল্যাহর। নিহতের ভাই জিএম ফয়সাল ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ২০১১ সালে তাদের বিয়ে হয় দাম্পত্য জীবন সুখে-শান্তিতে কেটেছে। বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় বছরে পা রেখে যৌতুকের দাবি তোলে আহসানুল্যাহ। সে প্রায়ই স্ত্রী রুবিনাকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন দিয়ে আসছিল। ঘাতক স্বামী ইনসেপটা কোম্পানির স্টাফ। কর্মস্থল ছিল খুলনায় ফুলতলায়। ইদানিং সেখানেই থাকতো আহসানুল্যাহ। ফয়সাল জানান. সেখানে এক মহিলার সাথে তার ভগ্নীপতি আহসানুল্যাহর পরোকিয়া ছিল। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি ছিল। অতিসম্প্রতি আহসানুল্যাহ রুবিনাকে জানায় সে ওই মহিলাকে বিয়ে করেছে। রুবিনা বিষয়টি মানতে পারেনি। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। নির্যাতনও বাড়িয়ে দিয়েছিল স্বামী আহসানুল্যাহ। এক পর্যায়ে রুবিনাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল দ্বিতীয় স্ত্রীকে টাকা দিয়ে তালাক দেবে। এই টাকা রুবিনার বাবার বাড়ি থেকে আনতে বলে। কিন্তু রুবিনা অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী শাশুড়ি মিলে তাকে নির্যাতন করে। স্বামী তার কর্মস্থলে চলে যায়। শুক্রবার বাড়িতে এসে আবারও যৌতুকের দাবীতে মারধর করে। এর একপর্যায়ে শনিবার গভীর রাতে স্বামী ও শাশুড়ি মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার এক পর্যায়ে তাকে বাড়ির পাশে একটি গর্ত খুড়ে পুতে ফেলার চেষ্টা করে। ঘটনাটি জানতে পেরে এলাকাবাসি বাধা দেয়। পরে তারা লাশ ঝুলিয়ে রেখে আতœহত্যার প্রচার দেয়। এদিকে পুলিশ রোববার সকালে এসে লাশ উদ্ধার করে। লাশের গলায় ও একাধিক স্থানে খতের চিহৃ দেখতে পায় পুলিশ। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মায়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। কালিগঞ্জ থানার ওসি গোলাম রহমান জানান, এঘটনায় স্বামী ও শাশুড়িকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। তবে এই হত্যার জন্য নিহতের ভাই ফয়সাল সরাসরি পুলিশের উপ-পরিদর্শক সোহরাব হোসেনকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল স্বামী ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে তার বোন রুবিনা। মামলার পর রুবিনা ও ছোট বোন ডালিয়া সাতক্ষীরা নাসিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষন শুরু করে। পুলিশের তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সোহরাব হোসেন মামলাটির দুর্বল অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। যেকারণে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়। এরপর থেকে আহসানউল্যাহ ও তার মা হাবিবা বেগম বিভিন্ন কৌশলে রুবিনাকে বুঝিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে ৩ মাস আগে খুলনার ফুলতলায় নিয়ে যায়। তিনি জানান, পহেলা বৈশাখে রুবিনা ও আনসানউল্যাহ নারায়নপুরে আসে। শনিবার গভীর রাতে আহসানউল্যাহ ও তার মা হাবিবা বসতঘরের মধ্যে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রুবিনাকে। পরে লাশের গলায় দড়ি বেঁধে রান্না ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আহাসনউল্যাহ ০১৭৫৬-৯৮৯৪৪৪নং মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শহীদুল্লাহ জানান, রুবিনা আক্তারের গলায় গভীর রক্তাক্ত ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। নির্যাতনের পর রুবিনাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর মা হাবিবা খাতুনকে নিয়ে পালিয়ে গেছে আহসানউল্যাহ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জিএম ফয়সাল আহম্মেদ বাদি হয়ে আহসানউল্যাহ, তার মা হাবিবার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪ জনের নাম উল্লেখ করে রোববার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৩।

শেয়ার