তিনটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠাসহ প্রত্নতত্ত্ব ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

Archaeology
সমাজের কথা ডেস্ক॥
নতুন করে তিনটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা, দেশের বিভিন্ন অংশে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং প্রাচীন কীর্তিগুলোর সংস্কার ও সংরণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরকে ৫০ কোটি টাকারি একটি প্রকল্প দেবে সরকার।

বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে ‘বাংলাদেশের প্রাচীন কীর্তিসমূহের সংস্কার, সংরণ, খনন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর।

প্রকল্পের মেয়াদাকাল ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্প এলাকাগুলো হচ্ছে- দিনাজপুর, নওগাঁ, চাঁপাইনাববগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা ও সাতীরা জেলা।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, তারা ৩টি নতুন যাদুঘর তৈরি করতে চায়। সম্ভাব্য স্থানগুলো হচ্ছে- সাতীরা, বরিশাল, রাজশাহীর বাঘা, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার গৌড় এবং মুন্সীগঞ্জের ইন্দ্রাকপুর। সরকার এর মধ্য থেকে তিনটি স্থান বেছে নেবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি চলতি (২০১৩-১৪) অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটি সবুজ পাতায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি নতুন অনুমোদিত প্রকল্পের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অচিরেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের(একনেক) নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ওঠানো হবে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. আব্দুল মান্নান হাওলাদারের সভাপতিত্বে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির(পিইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তিনটি নতুন মিউজিয়ামসহ সারা দেশে পুরোনো স্থাপনা ও প্রাচীন কীর্তি সংরণ ও সংস্কার করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১৯টি স্থানের ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। সম্পদ সংগ্রহ খাতে ৫টি অফিসের জন্য ১২ সেট কম্পিউটার ও ৫টি এসির জন্য টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জনবলের বিষয়ে অর্থ বিভাগাধীন জনবল নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করেই ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করতে হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণে ৪০০টি ন্যাশনাল হেরিটেজ সাইট রয়েছে। নিয়মিত বাজেটের আওতায় জরুরি বিবেচনায় প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে কিছু জায়গা প্রতœতাত্ত্বিক খনন কাজ পরিচালনা করা হয়।

কিন্তু প্রয়োজনীয়তার তুলনায় রাজস্ব বাজেটের বরাদ্দ নিতান্তই কম। হেরিটেজগুলোর যথাযথ সংরণের জন্য বিগত দশকগুলোতে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। পরিবেশগত বিপর্য়, বাতাসের আর্দ্রতা ও লবণাক্ততা ইত্যাদি কারণে প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম পাহাড়পুর ও বাগেরহাট। এসব নির্দশন সংস্কার ও সংরণেও প্রকল্পের টাকা ব্যয় করা হবে।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, অনেক প্রতœতাত্ত্বিক স্থান খনন করে তার অজানা ইতিহাসকে উন্মোচন করা জরুরি। সেজন্য খনন কাজ পরিচালনা দরকার। এর সঙ্গে কিছু েেত্র বিদ্যমান অবকাঠামো সংরণ দরকার। দেশের ইতিহাসকে জানা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পযর্টকদের কাছে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে প্রদর্শন করার মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ল্েয প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর এ প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

প্রকল্পের আওতায় জনবল নিয়োগ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণ কাজ করা হবে। এর ফলে অধিদফতরে জনবল ও অর্থ সমস্যারও নিরসন হবে।

এদিকে ‘সাউথ এশিয়া ট্যুরিজম ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর বাংলাদেশ অংশ সংশোধন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় পাহাড়পুর বিহার, মহাস্থানগড়, কান্তজী মন্দির, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক সাইট অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকিউরমেন্ট প্লানের বিধি নির্ধারণ করা হবে।

প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান কাজী মনিরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। যথাযথ সময়ে একনেক সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় তিনটি মিউজিয়াম নির্মাণ করা হবে। যেসব স্থানে খননের ফলে প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ পাওয়া যাবে তা সংরণের জন্য কোনো মিউজিয়াম তৈরি না করে কেবলমাত্র ুদ্র পরিসরে ডিসপ্লে করা হবে।

তিনি আরো জানান, যে সকল স্থাপনাদির প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু এখনও প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আওতায় আসেনি সেগুলোতে কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

শেয়ার