বাঘারপাড়ায় প্রেমিকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিকার বাড়িতে গ্রামবাসীর আগুন

Jessore fire
বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি॥ যশোরের বাঘারপাড়ার প্রেমঘটিত বিষয়ে কলেজ ছাত্র মাসুদ রানার মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিকার বাড়িতে ভাংচুর ও অ‎িগ্নসংযোগ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার মাহমুদ আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, মাসুদ রানার মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার অপমৃত্যুর মামলা হলেও শনিবার তা হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি প্রেমিকার দাদি মমতাজ বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের শিকার মাসুদ রানা (২০) বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদ আলীপুর গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে। শুক্রবার সকালে পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ গাছ থেকে উদ্ধার করে। ওই দিন এটি আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাসুদ রানা যশোর বিসিএমসি কলেজের শিার্থী। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিবেশি শাহীন আলমের মেয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী দিতিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় স্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠানে মেয়েটিকে ফুল দিতে গেলে মেয়ের এক ফুফাতো ভাই মাসুদকে গালমন্দ করে।
সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে ওই মেয়ের বাড়ির পাশের বাগান থেকে মাসুদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার একটি অপমৃত্যু মামলার পাশাপাশি মাসুদের বাবার হত্যার অভিযোগটি শনিবার মামলা হিসেবে নিয়েছে পুলিশ। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়ের পিতা শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন মাসুদকে যশোর থেকে ডেকে এনে হত্যা করেছে। এরপর তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।
শনিবার দুপুরে মাসুদ রানার বাড়িতে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যায় তার সহপাঠী বিসিএমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় গ্রামবাসী মাসুদকে হত্যার অভিযোগ তুলে শাহিন আলমের বাড়িতে হামলা চালায়। মাসুদের সহপাঠীরাও এতে যোগ দেয়।
তারা ওই বাড়ি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, প্রাথমিকভাবে মাসুদের মৃত্যু আত্মহত্যা মনে হওয়ায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। পরে মাসুদের বাবা হত্যার অভিযোগে মামলা দেয়ায় তাও গ্রহণ করা হয়েছে। আর শাহিন আলমের বাড়িতে আগুন দেবার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শেয়ার