প্রাথমিক-উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতি, মাধ্যমিকে নয়

sobar jonno sikkha
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পাসের হার বৃদ্ধি সত্ত্বেও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে শিক্ষা দেওয়া হয়, তার মান যদি উপযুক্ত না হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণ হবে না।

তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতি হলেও মাধ্যমিকের অবস্থা ভালো নয়। এখানে আরো কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যাপারে চিন্তা করার সময় এসেছে। এখানে সরকার বিনিয়োগ করছে। জনগণের ট্যাক্সের অর্থে শিক্ষকদের এমপিও দিচ্ছে। এটা করা হচ্ছে, মাধ্যমিকে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য। কিন্তু, বাস্তবে কতটুকু বেড়েছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণের সময় এসেছে।

গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা (ইএফএ) ও ২০১৫ পরবর্তী এজেন্ডা: বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরাসউদ্দিন এসব কথা বলেন।

সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উম্মুক্ত আলোচনায় শিক্ষাখাতে পাসের হার বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও কোচিং, টিউশনির মতো নানা অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ ও ঘাটতির কথাও বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষ এদেশে প্রায় ১০ কোটি আর ১৫-৪০ বছরের মানুষ রয়েছে ৫ কোটি। এদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দিয়ে মানবসম্পদে পরিণত করতে পারলে দেশের অগ্রগতি বর্তমানের চেয়ে আরো বেশি হতো।

এছাড়াও গ্রাজুয়েটের মান যদি উপযুক্ত না হয়, তবে তার যথার্থ বাজার চাহিদা সৃষ্টি হবে না।

প্রাইভেট টিউশন, কোচিং ও নকল- এই তিনটি বিষয় জাতীয় অগ্রগতিকে আটকে দিচ্ছে বলে এ সময় মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর।

রাজধানীর এলজিইডি মিলনায়তনে শনিবার অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে আলোচকদের বক্তব্যে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষকদের ক্লাসে অনিয়মিত পাঠদান, ভর্তিতে ডোনেশন বাণিজ্য, বাণিজ্যিক স্কুল প্রতিষ্ঠার হিড়িক ও সেখানে মোটা অংকের ডোনেশনসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়মের চিত্রও উঠে আসে।

এ সময় তারা অভিযোগ করেন, স্কুল পরিচালনা কমিটিতে (এসএমসি) নিরক্ষর লোকেদের ভিড়, শিক্ষকদের কর্ম ঘণ্টায় ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা, চরাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগের অভাবসহ নানা বিষয় শিক্ষার মূল অগ্রগতিকে আটকে ধরেছে।

শেয়ার