দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপর দিয়ে বইছে মাঝারি তাপপ্রবাহ॥ তাপদাহে দুর্বিষহ জনজীবন

Pakha bikroy
এম এ রাজা ॥
যশোরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৈশাখের শুরু থেকেই এই তাপ প্রবাহ বইতে শুরু করেছে। যা ক্রমেই বাড়ছে এবং তা আরো কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে। সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত প্রায় একই তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে গরম কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। প্রচণ্ড খরতাপে শ্রমজীবী মানুষসহ সর্বস্থরের জনগণ রীতিমত কাহিল হয়ে পড়েছেন। এই ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি পেতে যে যার অবস্থান থেকে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে গরমের তীব্রতা। গতকাল শনিবার যশোরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এর আগের দিন ছিল ৩৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৫ ডিগ্রি ছিল রাজশাহী জেলায়। এই তাপমাত্র অব্যাহত থাকবে আরো কিছুদিন। বৃষ্টি হলে গরমের তীব্রতা কমবে বলে ধারণা করছে। তবে কালবৈশাখী ঝড়ও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিসের হিসেব মতে, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি মৃদু, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি মাঝারি এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপ প্রবাহের আওতায় আসবে।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদ জানান, ভ্যাপসা গরম ও তাপমাত্রা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। কালবৈশাখীর সঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা কমবে না। চলতি বছর আবহাওয়া কিছুটা বৈরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময় মৃদু ও মাঝারি তাপদাহ সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এ বছর তা সহ্য মতা ছাড়িয়ে গেছে। এ ধরনের তাপদাহে এতটা গরম অনুভূত হয় না কখনো। কিন্তু এ বছর হচ্ছে।
গরমের কারণে দুপুরের দিকে রাজপথে লোকজনের আনাগোনা অন্যদিনের তুলনায় অন্য সময়ের তুলনায় কম। কারণ গরমের তীব্রতার ফলে মানুষ সাধারণত নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে চায় না। এছাড়া শ্রমজীবী লোকজনও তেমন একটা কাজ করতে পারছে না কারণ এই গরমে অল্প শ্রমে কান্ত হচ্ছে শ্রমিকেরা।
এদিকে তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, হাম, জলবসন্ত, শ্বাসকষ্ট। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, নারী ও বয়স্কদের।
এ ব্যাপারে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আক্তারুজ্জামান মির্জা বলেন, এই গরমে বেশি পরিমাণ ওরস্যালাইন, ডাবের পানি খেতে হবে। এছাড়া গরমে যে কোন বয়সের মানুষকে খাবার খাওয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের দিকে বেশি নজর রাখার কথা বলে তিনি আরো বলেন, গরমে শিশুদের বেশিণ রোদে না রেখে যতটুকু সম্ভব ছায়ায় রাখতে হবে। কোন কারণে শরীরে ঘাম জমলে তা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। ঘন ঘন গোসল করানো যাবে না এবং কোনোভাবেই অতিরিক্ত মসলা ঝাল এবং আচার জাতীয় খাবার দেওয়া যাবে না। তারপরেও যে কোন ধরনের শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরার্মশ নিতে হবে।
ডা. মুশফিক উর রহমান বলেন, এই গরমে সবচেয়ে বড় রোগ হচ্ছে হিটস্ট্রোক। এটি হলে রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার শরীরের মাল্টি অরগানগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। রোগীর কিডনি ও ফুসফুস কাজ করে না। গরমে ঘাম বেশি হওয়াতে তি নেই। তবে এর বিপরীতে প্রচুর পানি খেতে হবে।

প্রচণ্ড গরমে একটু স্বস্তির জন্য দরকার বাতাস। সেই বাতাসের জন্য তালপাখাতেই আশ্রয় খুজছেন শ্রমজীবী মানুষ।

শেয়ার