কারখানা উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র

Papri
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পোশাক কারখানায় পরিদর্শক নিয়োগ, শ্রম আইন পরিবর্তন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান, কারখানার পরিবেশ উন্নয়ন, ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তুষ্ট মার্কিন প্রসাশন।
রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাতকালে মার্কিন ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি অতুল কেসাপ এসব কথা জানান। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকসূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
মিয়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান অতুল কেসাপ।
বৈঠক শেষে অতুল কেসাপ সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অংশগ্রহণমূলক, গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও নিরাপদ দেশ হিসেবে দেখতে চায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক, গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ অবস্থানরত মিয়ানমার শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো এবং মিয়ানমারের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মার্কিন ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারিকে অবহিত করেছি। বিষয়গুলো মার্কিন সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেসাপ।
আগামী মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় নিরাপত্তা সংলাপ উপলক্ষে কেসাপ বাংলাদেশে এসেছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপ, মাদক পাচার রোধ, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলাপ হবে।
কেসাপ এদেশের বিদ্যুত পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্প শুরুর উদ্যোগের কথা অবহিত করেছি। তবে এ সকল প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেশি দিতে হয় উল্লেখ করে এ খাতে আরো ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন।
এছাড়া অতুল কেসাপ বাংলাদেশের বিদ্যুত ঘাটতি মোকাবেলায় নেপাল ও ভুটানের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতসহ এসকল দেশের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ সঞ্চালনের বিষয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার।
মার্কিন ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি এদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী তাকে জানান, বর্তমানে এর পরিমাণ বাড়ছে।
শাহরিয়ার আলম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত অপরাধী যারা যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক আছে তাদের ফিরিয়ে আনতে সহায়তা চেয়েছি। উচ্চমহলে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কেসাপ।
অতুল কেসাপ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি সহিংসতা এবং জামায়াতকে বর্জন করলে সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সরকারের কর্মকাণ্ড একটি দল দ্বারা সমালোচিত হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
দশম সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বের অবস্থানেই আছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে এ সরকার ও জনগণের সঙ্গে কাজ করে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

শেয়ার