কম খরচে মালয়েশিয়ায় গমন ॥ ভিসা না আসায় টেনশনে ১৮২ শ্রমিক

malaysia
তবিবর রহমান ॥
যশোরে ১৮২ শ্রমিকের মালয়েশিয়া যাবার স্বপ্ন আটকে গেছে। সরকারিভাবে কম খরচে স্বপ্নের মালয়েশিয়া যেতে তারা পাসপোর্ট, মেডিকেল, ফিঙ্গারিংসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও ভিসা না আসায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া নির্বাচিত ২১৩ জনের মধ্যে গত এক বছরে মাত্র ৩১ জন বিদেশ যেতে পারায় অন্যরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এমনকি অধৈয্য হয়ে গেল সপ্তাহে অবৈধ পথে বিদেশ গেছে ঝিকরগাছার এক শ্রমিক।
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস যশোরের জরিপ অফিসার ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা কাজী মূর্তজা আলী জানান, সরকারিভাবে মাত্র ২৮ হাজার টাকায় মালয়েশিয়া নিতে গত বছর ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার ৯১টি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে ৩৪ হাজার ৮৫৪ জন একযোগে মালেশিয়া গমনের জন্য নিবন্ধন করেন। নিবন্ধন শেষে প্রাথমিক পর্যায়ে ৭২২ জন মনোনীত হন। আর শারীরিক যোগ্যতা, মালামাল বহনের ক্ষমতা ইত্যাদি যাচাই শেষে মনোনীত ২১৩ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালেশিয়ায় যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত মনোনীত হন। কিন্তু গেল এক বছরের মধ্যে বিদেশ যেতে পেরেছেন মাত্র ৩১ জন। অপেক্ষার প্রহর গুণছেন অবশিষ্ট ১৮২ জন শ্রমিক।
যশোর সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মাসুম হোসেন জানান, তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। মেডিকেল, ফিঙ্গারসহ সবকিছুই করেছেন। কিন্তু কবে যাওয়া হবে সেটার কোন উত্তর নেই। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে মোবাইলে মেসেজ দিয়ে জানানো হবে বলে তাকে আশ্বাস্ত করা হয়। অভয়নগরের চলিশিয়া গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন জানান, তার ভাই ইসরাইলকে মাত্র ২৮ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় পাঠায়ে সংসারে একটু স্বচ্ছলতা আনার চিন্তা করেছিলেন। এজন্য তিনি পাসপোর্টসহ যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করেন। কিন্তু এক বছর পরেও কোন খবর নেই। আদৌ সরকারিভাবে মালায়েশিয়া যাওয়া হবে কিনা সেটা নিয়ে তার সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস যশোরের সহকারী পরিচালক রাহেনুল ইসলাম জানান, মালয়েশিয়া সরকার একটু ধীরে ভিসা ছাড়ছে। তবে দ্রুত ভিসা ছাড়তে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ করে চলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশ যেতে দেরি হওয়ায় অনেক শ্রমিক অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। অধৈর্য হয়ে মাত্র এক সপ্তাহ আগে অবৈধভাবে বিদেশ চলে গেছেন ঝিকরগাছার উপজেলার একজন শ্রমিক। নিবন্ধিত এ শ্রমিককের নামে মালয়েশিয়া থেকে ভিসা আসলে তার বাড়িতে খবর দেয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা জানতে পারেন ওই শ্রমিক অবৈধ পথে ২/৩ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ গেছেন। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধিত সব শ্রমিকের তথ্য মালয়েশিয়া সরকারের কাছে রয়েছে। তারা সেখান থেকে শ্রমিকদের নামে ভিসা পাঠাচ্ছে। এ বিষয়ে কারও কোন হস্তক্ষেপ নেই। তবে দেরি হলেও নিবন্ধিত সবাই সরকারিভাবে বিদেশ যেতে পারবেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার