লোহাগড়ায় যৌতুক না পেয়ে বধূকে হাতুড়িপেটা

haturi peta
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি॥ লোহাগড়ার পল্লীতে এক লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে না পেয়ে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে জুয়াড়ী স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বর্তমানে ওই গৃহবধূ লোহাগড়া হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তাকে বাঁচাতে পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৮ সালে লোহাগড়া উপজেলার ছত্র হাজারী গ্রামের রকিব মোল্যার ছেলে ইকবাল মোল্যার সাথে পার্শ্ববর্তী দেবী গ্রামের মোতালেব মোল্যার মেয়ে চিনি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক লোভী ও জুয়াড়ী স্বামী ইকবাল স্ত্রী চিনি বেগমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন দিতে শুরু করে। বিভিন্ন সময় চিনি বেগমের অভিভাবকরা যৌতুকের টাকা দিয়েছেন কিন্তু এখন আর পারছেন না। সম্প্রতি লাখ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ১৬ এপ্রিল ইকবাল, ননদ ডলি বেগম, ননদের জামাই মশিয়ার মোল্যা ও শ্বাশুড়ী সাহিদা বেগম পরস্পর যোগসাজগে লোহার রড ও হাতুড়ী দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় চিনি বেগম কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে চিনি বেগম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এলাকাবাসী আহত চিনি বেগমকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চিনি বেগম শুক্রবার সকালে কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, জুয়া খেলার জন্য বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমার ওপর এহেন নির্যাতন চালানো হয়েছে। নির্যাতিত চিনি বেগম মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার