মোবারকগঞ্জ চিনিকলে চিনির হরিলুট ! ॥ আনসার সদস্যকে পিটিয়ে আহত করলেন মিলের সিকিউরিটি অফিসার ॥ তদন্ত ও শাস্তির দাবি

mobarokgonj cini kol
নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ॥ দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ২০১৩-১৪ মৌসুমের আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার মিল বন্ধের দিন লক্ষাধিক টাকার চিনি হরিলুট হয়েছে। হরিলুট ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধে সিকিউরিটি অফিসার আজিজুর রহমান আনসার সদস্য শামসুল ইসলামকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। এ সুযোগে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি চিনি লুট করে মিলের লোকজন। হরিলুটের জন্য কারখানা ব্যবস্থাপক নওশেরুজ্জামানের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন মিলের শ্রমিক কর্মচারী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, গত ১৫ এপ্রিল আখ মাড়াই কার্যক্রম শেষ হয়। বৃহস্পতিবার ছিল চিনি উৎপাদনের শেষ দিন। এদিন দুপুরে চিনি উৎপাদন কারখানার মধ্যে শ্রমিক, কর্মচারীরাসহ বেশ কিছু বহিরাগত যে যার মত চিনি বাইরে পার করে দেন। এ সময় আনসার সদস্য শামসুল ইসলাম বাধা দিয়েও চিনির হরিলুট ঠেকাতে পারেননি। তিনি বিষয়টি মিলের সিকিউরিটি অফিসার আজিজুর রহমানকে জানিয়ে মারপিটের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় সুগার মিলের মধ্যে ব্যাপক গোলযোগ ও হৈ-হুল্লার সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে ফের মিলের গোডাউন থেকে আরও ৫০ কেজি ওজনের প্রায় ৫০ বস্তা (২ হাজার ৫০০ কেজি) চিনি লুট করে শ্রমিক কর্মচারিরা। এ ব্যাপারে মিলের কারখানা ব্যবস্থাপক নওশেরুজ্জামান সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছু লাল চিনি হয়ত শ্রমিক কর্মচারিরা নিতে পারে। এনিয়ে কারখানার মধ্যে একটু হৈ হুল্লা হয়েছে। তিনি চিনি হরিলুটের কথা অস্বীকার করে বলেন, এটা তেমন কোন নিউজের বিষয় নয়। অপরদিকে চিনিকলের সাধারণ শ্রমিক কর্মচারি লুটপাট ও হৈ-হুল্লার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। মিলের মধ্যে থেকে চিনি লুটপাট, ব্যর্থতার দায় স্বীকার করায় আনসার সদস্যকে মারপিট ও ফের লুটপাটের ঘটনার অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন তারা। এ ব্যাপারে তদন্ত ও অদক্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিনিশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

শেয়ার