সাউথ ইস্ট ব্যাংকে চাকুরি পাইয়ে দেয়ার নামে লাখ টাকা হাতিয়েছে সাতক্ষীরার প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম

protarona
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ ঢাকায় সাউথ ইস্ট ব্যাংকে চাকুরি দেয়ার নাম করে এক সংখ্যালঘু পরিবারের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক। টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রতারক কাজী জাহাঙ্গীর আলম মামলা দিয়ে ওই পরিবারকে হয়রানি করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বুধবার সাতীরা প্রেসকাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার উভাকুড় গ্রামের শ্রীপদ মন্ডলের ছেলে ডাঃ হরিদাশ মন্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডাঃ হরিদাশ মন্ডল বলেন, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে কালিগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া গ্রামের মৃত কাজী আব্দুর রব এর ছেলে কাজী জাহাঙ্গীর আলম আমার ছেলে সুমিত মন্ডলকে ঢাকায় সাউথ ইস্ট ব্যাংকে পিয়ন পদে চাকুরী দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এজন্য জাহাঙ্গীর তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করলে চাকুরিতে যোগদানের পর তা দেয়ার কথা হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ৭ মার্চ জাহাঙ্গীর তার ছেলে সুমিত মন্ডলকে নিয়ে ঢাকায় যায়। একদিন পর সে ঠিকানা বিহীন হাইজিন কোম্পানীর একটি নিয়োগপত্র তার ছেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে টাকা দাবি করে। ছেলের কথামত আমি ৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক, কালিগঞ্জ শাখায় জাহাঙ্গীর আলমের নামীয় ২৬৬০৭ নং একাউন্টে অনলাইনের মাধ্যমে ১ ল টাকা জমা দেই। বাকী ১ ল টাকা ১ মাস পরে দেওয়ার কথা বলি। কিন্ত জাহাঙ্গীর তার ছেলেকে সাউথ ইস্ট ব্যাংকে চাকুির না দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানীতে টয়লেট পরিস্কার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়েছে। অথচ নিয়মিত অর্থ না পেয়ে না খেয়ে এক পর্যায় সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এভাবে ১৯ দিন চলার পর আমাকে ফোন করে বলে “বাবা আমি আর চলতে পারছিনা”, তুমি কিছু করো। আমি তখন জাহাঙ্গীরকে জানালে সে বলে, আপনার ছেলেকে চাকুির দিয়েছি টিকতে না পারলে আমি কি করবো। তখন আমি বিকাশ করে খরচের টাকা পাঠালে সুমিত বাড়ি ফিরে আসে। বর্তমানে তার মানুষিক ভারসাম্য নষ্ঠ হয়েছে। এখন সে বিষন্ন জীবন যাপন করছে। তিনি আরও বলেন, ছেলে বাড়ি আসার পর তার কাছে বিস্তারিত শুনে আমি জাহাঙ্গীর আলমকে বলি, তুমি সুমিতের ব্যাংকের নিয়োগপত্র দাও না হলে ১ ল টাকা ফেরত দাও। তখন থেকে সে টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য তালবাহানা শুরু করে। টাকা ফেরত চাওয়ায় মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছে। তিনি প্রতারক কাজী জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে এক লাখ ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তপে কামনা করেন। একই সাথে আর কোন পরিবার যাতে কাজী জাহাঙ্গীর আলমের খপ্পরে না পড়ে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

শেয়ার