পাইকগাছায় লবণাক্ত পতিত জমিতে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন॥ কৃষকের হাসি

surjomukhi
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি॥ খুলনার পাইকগাছায় লবণাক্ত পতিত জমিতে হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। চলতি মৌসুমে ২৬ একর জমিতে ২৭ জন কৃষক সূর্যমুখীর আবাদ করেছে। প্রথম বছরেই বাম্পার ফলন হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে সূর্যমুখী চাষের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে কর্তন শেষে একর প্রতি ১৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা।
সূত্র মতে, কৃষি অধ্যুষিত এ উপজেলায় মোট কৃষি জমি রয়েছে ৩০ হাজার হেক্টর। যার মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর কৃষি জমি বছরের পর বছর ধরে লবণ পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে লবণাক্ততার কারনে অবশিষ্ট কৃষি জমির অধিকাংশই পতিত পড়ে থাকে। পতিত এসব জমিতে ফসল উৎপাদনের ল্েয ব্র্যাক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে ২৬.১০ একর জমিতে হাইসান, ৩৩ জাতের সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের আমিরপুর মৌজায় ২৭জন কৃষক সূর্যমুখীর আবাদ করেছে। উপজেলার কোথাও সূর্যমুখীর আবাদ না হলেও বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রথম বারের মত সূর্যমুখীর চাষ করে অধিক লাভের আশা করছে কৃষকরা। উত্তর আমিরপুরের কৃষক বারিক মিস্ত্রী জানান, চলতি বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত না হানলে চলতি মাসের শেষের দিকে ফসল কর্তন করা হবে এবং একর প্রতি ১৫ মেট্রিক টন উৎপাদন করা হতে পারে বলে তিনি জানান। ব্র্যাকের সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার এস,এম, শাহীন আলম জানান, বর্তমানে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো শস্য বহুমুখী করণ এবং নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দরিদ্র অধ্যুষিত এলাকায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের কারিগরী ও উপকরণ সহায়তা প্রদান করায় চলতি মৌসুমে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, দীর্ঘদিন পতিত থাকা লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখী চাষের সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত সূর্যমুখী ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার