ঝিনাইদহে ৫ বছরে যক্ষ্মায় ৫২০ জনের মৃত্যু ॥ যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক গোলটেবিল

golteble boythok
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় ৫ বছরে ৯০ হাজার ৫৪৪ জন সন্দেহজনক রোগীর কফ পরীায় ৭ হাজার ৪০৩ জনের শরীরে যক্ষ্মার জীবাণু ধরা পড়েছে। এরমধ্যে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫২০ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৪৭ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসকাব মিলনায়তনে ‘যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও সর্বস্তরের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বছর ভিত্তিক অগ্রগতি রিপোর্টে থেকে এ তথ্য জানা যায়। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, ডা. দুলাল কুমার চক্রবর্তী, ডা. কামাল হোসেন, ডা. সাজ্জাদ হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেসকাবের সভাপতি এম. সাইফুল মাবুদ, সাধারণ সম্পাদক নিজাম জোয়ারদার, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, মধুসুদন দে। গোলটেবিল বৈঠকে ঝিনাইদহে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ঝিনাইদহ প্রেসকাব ও ব্র্যাক ঝিনাইদহ যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিনাইদহে যক্ষ্মা রোগের আরোগ্যের হার শতকার ৯০ ভাগের ওপরে। ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার ১৯২টি কেন্দ্রে কফ সংগ্রহ করে ১২টি ল্যাবরেটরিতে পরীা করা হচ্ছে। যা রোগীদের সহায়তার জন্য জেলায় ২৬৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১ হাজার ১৭৯ জন সেবিকা রয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, ‘যক্ষ্মা হলে রা নেই’ এ কথাটি আজ মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। বরং নিয়মিত চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগীকে ভাল করে তোলা সম্ভব। বক্তারা আরও বলেন, যক্ষ্মা রোগ এখন কোন মারাত্মক ব্যাধি নয়। এই রোগ নিয়মিত ঔষধ সেবনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জেলা সদর হাসপাতালে বিনামুল্যে এই রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেউ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হলে বা ৩ মাসের বেশী কাশি হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানানো হয়। এছাড়া বৈঠকে যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হবার আহবান জানান বক্তারা।

শেয়ার